আহমেদ দীপ্ত
বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারের ১৩ লাখ তালগাছ লাগানোর প্রকল্পটি ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে আরও দুটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) বসানো হবে। প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলায় এই দণ্ড বসানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত ১৯ জন।
গত ১২ বছরে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ২ হাজার ৮৫৪ জন। আর চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে মারা গেছেন ২৬৪ জন। এই প্রেক্ষাপটে বজ্রপাত ঠেকাতে সরকারের করণীয় কী, তা আবারও আলোচনায় এসেছে।
বজ্রপাতের ক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক বছর ছিল ২০১৬ সাল। ওই বছর প্রায় ৪৩ লাখ বজ্রপাতে মারা যান প্রায় ২৬৩ জন মানুষ। সে বছর বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এর এক বছর পর সারাদেশে প্রথমে ১৩ লাখ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেয় সরকার। তখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তালগাছ ও নারকেল গাছ রোপণ করা হলে সেগুলো বজ্রনিরোধক দণ্ড হিসেবে কাজ করবে। অবশ্য এই প্রকল্প নিয়ে সরকারকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় ।
চলতি বছরের ১১ মে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে তালগাছ লাগিয়ে বজ্রপাত মোকাবিলার কৌশলে ইতি টানার কথা সাংবাদিকদের জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। এনামুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, তখন তালগাছ লাগানোর পরে দেখা গেল, যত্নের অভাবে সেগুলো মারা যাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত এটি বাতিল করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের কোন কোন অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয় (হটস্পট), তা বের করতে অধিদপ্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটির আলোকে বজ্রপাতের হটস্পটগুলোতে বজ্র নিরোধক দণ্ড বসানোর প্রকল্প নেয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে (পাইলট প্রকল্প) ১৫টি জেলায় ৩২০টি বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক সংকেত (আর্লি ওয়ার্নিং) দেয়ার কথাও ভাবছে অধিদপ্তর।
রোপণ করা তালগাছগুলো কী ভূমিকা রেখেছে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ২০১৭ সালে রাস্তার দুই পাশে তালগাছ রোপণ করা হয়েছিল। তালগাছ বড় হতে অনেক সময় নেয়, ৩০ থেকে ৪০ বছর লাগে। তাই, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব ছিল না। তাঁর মতে, বজ্রনিরোধক দণ্ড বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত।
দুই মন্ত্রণালয়ের দুই প্রকল্প
বজ্রপাতের কারণে হতাহতের সংখ্যা কমাতে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় দুটি আলাদা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের হাওরাঞ্চলের বজ্রপাতপ্রবণ ২৩ জেলায় বজ্রপাত-নিরোধক কংক্রিটের ছাউনি (শেল্টার) নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ৩০০ কোটি টাকা। একেকটি ছাউনি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এসব ছাউনিতেও বজ্র নিরোধক দণ্ড বসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘হাওরাঞ্চলে কৃষকদের জীবনের সুরক্ষায় বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ২৩১ কোটি টাকা। এর আওতায় হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৫৮টি উপজেলায় ১০০ থেকে ১২০ বর্গমিটার ব্যাসার্ধের ১৬টি আর্লি স্টিমার ইমিটার (ইএসই) নামে বজ্রনিরোধক যন্ত্র বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘আর্থ নেটওয়ার্কস লাইটিং অ্যান্ড সিভিয়ার ওয়েদার আর্লি ওয়ার্নিং সল্যুশন’-এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ, ভয়েস ও খুদেবার্তার আকারে স্থানীয়দের সতর্কবার্তা দেয়া হবে।
বাংলাদেশের বজ্রপাত নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্লানেটারি সায়েন্সেসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আশরাফ দেওয়ান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখন অ্যারেস্টার, ছাউনি এবং আর্লি ওয়ার্নিং পদ্ধতির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। অ্যারেস্টারের গুণগত মান ও ব্যবহারের আগে কার্যকারিতার সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে এগুলো মৃত্যু কমানোর বিপরীতে বাড়াতে পারে।
বজ্রপাত কমলেও তা শক্তিশালী
দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা অবশ্য কমলেও সেটা উদ্বেগ কমানোর মতো নয়। কারণ, এখনও বছরে প্রায় ২৩৮ জন মানুষের মৃত্যু হয় ভূমিতে নেমে আসা বজ্রপাতে। আর মারা যাওয়াদের প্রায় অধিকাংশই কৃষক বা মাঠে কাজ করার সময়।
ফিনল্যান্ডের বজ্রপাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ভাইসালারের হিসাবে বাংলাদেশে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ বা তার বেশি বজ্রপাত হয়। ২০১৯ সালে তা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়। ২০২০ সালে বজ্রপাতের সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৫ লাখের কিছু কম।
ভাইসালারের সাত বছরের তথ্য বলছে, দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ৭০ শতাংশ ঘটনা ঘটে কৃষিকাজ করার সময়। এ ছাড়া বাড়ি ফেরার পথে সাড়ে ১৪ শতাংশ এবং গোসল করা ও মাছ ধরার সময় ১৩ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এই তথ্যের মিল পাওয়া গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক হিসাবে। অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা যাওয়া ২৬৪ জনের মধ্যে ২৬০ জনই পেশায় কৃষক বা মাঠে কাজ করার সময় মারা গেছেন।
২০২১ বজ্রপাতে মৃত্যুর জেলাওয়ারী হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৬ জন। ১৬ থেকে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায়। ১২ থেকে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী ও বগুড়ায়।
গবেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সংখ্যাটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে হতাহতের সংখ্যা বেশি হতে দেখা যাচ্ছে। গাছপালা কমে যাওয়া, মাঠে উঁচু গাছ না থাকা এবং পানির কাছাকাছি থাকার কারণে বাহক হিসেবে মানুষ বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া মৌসুমী বজ্রপাতের কারণ মূলত মৌসুমী বায়ুর প্রভাব।
গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের ভূমিরূপের কারণেও বজ্রঝড় বেশি হয়। প্রাক-মৌসুমে দেশে অন্য মৌসুমের তুলনায় বজ্রপাত বেশি হয়। যার মূল কারণ কৃষিতে সেচকাজ- যা ভূমি ও বায়ুমণ্ডলের এনার্জি এক্সচেঞ্জকে প্রভাবিত করে। গাণিতিক ও আবহাওয়ার মডেল অনুযায়ী, প্রাক-মৌসুমে বজ্রপাত ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়ে, অন্য সময়ে কমে। আর প্রাক-মৌসুমে যে বজ্রপাত হয়, তার তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কাও বেশি।
আশরাফ দেওয়ান দৈনিক বাংলাকে বলেন, মূলত বজ্রপাতগুলো বৃহৎ শক্তি (ভোল্টেজ) নিয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ছে। ভূমিতে নামার সময় বজ্রপাত উঁচু বাহক খোঁজে। মাঠে উঁচু গাছ কম এবং ওই পরিবেশে গাছপালাও কমে যাচ্ছে। ফলে বজ্রপাত বাহক হিসেবে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, হতাহতও বাড়ছে।
উদাহরণ দিতে গিয়ে এই গবেষক বলেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর তেলিখাড়ি ঘাটে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৬ জন। তাঁরা সবাই ঘাটে পানির কাছাকাছি ছিলেন। আবার এ বছর ৮ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের ৫ জনসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। তারা সবাই মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। ফলে একসঙ্গে এতগুলো বাহক পেয়ে বজ্রপাত তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে আঘাত হানে।
জেলা শহরের পুরাণবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে ১৯টি দোকান।
আজ শুক্রবার ভোররাতে শহরের বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারের সিটি সুপার মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, আজ ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সৌরভ হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাদারীপুর, কালকিনি ও টেকেরহাট ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় কাপড়, গার্মেন্টস, কসমেটিকস’র অন্তত ১৯টি দোকান।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারে পানি সরবরাহ করতে দেরি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। স্থানীয় পুকুর ও ডোবাগুলো মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি না পাওয়ার অন্যতম কারণ।
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে কক্সবাজারের টেকনাফে ডাকাতে আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ নদগ অর্থ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলিখালি নামক স্থানের চিহ্নিত হারুন ডাকাতের বাড়িতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হারুন ডাকাতের বাড়ি তল্লাশি করে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড তাজা গোলা, ৫টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ ৩০ লাখের বেশি টাকা, স্বর্ণালংকার, একাধিক চেকবই ও ২০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণ টেকনাফ কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে একই দিন মধ্য রাতে টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ নাফনদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে.কমান্ডার মো. সিয়াম-উল-হক। তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান পাচারের খবরে নাফনদী র্যাবসহ যৌথ অভিযানে এই ইয়াবা চালান উদ্ধার করা হয়েছে। জলপথে মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে এ অভিযান চলমান থাকবে।'
বান্দরবানের লামায় গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনায় গাড়ি চালক, হেলফারসহ ৩২ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়কের মাদানি নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ডা. ফাহাদ বিন তৈয়ব (৩৪), মালিয়াত জাহান দুলিকা (১২), আব্দুল্লাহ মো. ওমর ফারুক (৫), আওসাফ আহনাফ সিদ্দিকি তাহজিব (১২), ফজল আহমেদ (৫৫), মো. হেলাল (৩১), তাহজীব (১২), দুলিফা (১৫), নেজাম (৪৫), তানভীর (১৫), ওয়াজিফা (১৭), নাহিদা (১৯), তারিন (১৪), শাহাদাত (৩২), মাশফিকা (২৫), শহীদ (২৫), মাশকুরা সিদ্দিকা (২০), গাড়ির হেলফার আমজাদ (৩০), নাজাত সিদ্দিকা (২৩), নিজাম উদ্দিন (৫২) গাড়ি চালক লিটন দাশ (২৬), জাহিদা বেগম (২৬), দিলরুবা সিদ্দিকা (৫০)। এরা সবাই চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ও কলাউজান ইউনিয়নের বাসিন্দা।
সূত্র জানায়, লোহাগাড়া উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঈগল পরিবহন যোগে লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পাহাড়ের পর্যটনে ঘুরতে যান ফজল আহমদ ও তার পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনেরা। গাড়িটি উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় পৌঁছার পর তেল শেষ হয়ে যায়। পরে চালক তেল নিতে যাত্রীদের নিয়ে লামা উপজেলা শহরের দিকে রওয়ানা হয়। এক পর্যায়ে সড়কের পশ্চিম লাইনঝিরি মাদানিনগর মোড়ে পৌঁছলে গাড়িটির ব্রেক কাজ করছিলনা। চালকের দূরদর্শীতায় গাড়িটি সড়কের পাশের কড়ই গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি পাহাড়ি খাদে না পড়ে, গাছের সঙ্গে আটকে গেলেও ৩২ যাত্রী কম বেশি আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীরা।
এ বিষয়ে লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সোলায়মান বলেন, আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসাা দেওয়া হয়েছে। তবে শিশু তাহজীব ও গাড়ির হেলফার আমজাদসহ তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় পতিত বাসটি থানা হেফাজতে আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুরের শ্রীপুর সাত খামাইর রেল স্টেশনের কাছে জামালপুরগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারে আগুন ধরে গেছে।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলরুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটিতে আগুন লাগলে সাত খামাইর স্টেশনের কাছে থামানো হয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই বিষয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবুল খায়ের বাসস’কে জানান, আজ সকালে মহুয়া কমিউটার ট্রেনটি জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করেছে। ট্রেনটি ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল রুট দিয়ে শ্রীপুর রেলস্টেশন অতিক্রমের পরপরই সাত খামাইর স্টেশনের কাছে গেলে পাওয়ার কারে আগুন লাগে। এই সময় সাত খামাইর স্টেশনটি বন্ধ থাকায় সেখানে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি ঢাকায় জানানো হয়েছে।
এদিকে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ট্রেনে আগুন লাগার খবর পেয়ে দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মিরপুর মডেল থানার সহ-মুখপাত্র তানিফা আহমেদ সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উমামা ফাতেমা তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, তানিফা আহমেদ ছাত্র আন্দোলনের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন এবং তিনি সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি আরও লেখেন, সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে তার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তানিফা শুধু আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন না; বরং তিনি বিশ্বাস ও আদর্শের জন্য কাজ করে গেছেন।
উমামা ফাতেমা লেখেন, এই শোকাবহ মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছে তানিফার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করেন, আমিন।
এ দুর্ঘটনায় তানিফার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এনসিপি ও তার সহকর্মীদের শোকসন্তপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-মুখপাত্র তানিফা আহমেদ।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১০ হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। উল্লেখ্য, গত তিন দিনে একই এলাকার আধা কিলোমিটার এলাকায় তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা না গেলেও, তারা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। মাইক্রোবাসটি কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারগামী ছিল।
দুর্ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল, আর বিপরীত দিক থেকে আসা রিলাক্স পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী মারা যান, আর গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
লোহাগাড়া থানার অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ জাহিদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগে, ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকালে চুনতি এলাকায় বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ৬ জন আহত হন। এছাড়া, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) একই স্থানে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ৮ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় এ এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।
৯ দিনের ছুটিতে পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের নোনাজলে গা ভেজাতে ছুটে যান দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
ঈদের পরদিন থেকে কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকের। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে।
পর্যটকের কেউ কেউ সাগরের ঢেউয়ে শরীর ভিজিয়ে টিউব নিয়ে সাঁতার কেটে উপভোগ করছেন স্বচ্ছ সাগরের জলরাশি।
আবার অনেকেই জেড স্কিতে চড়ে ঘুরে আসছেন ঢেউয়ের তালে তালে। বালিয়াড়িতে ঘোরাফেরা, কিটকট চেয়ারে বসে সাগরের শীতলতা উপভোগেও ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। ঈদ উৎসব ঘিরে কক্সবাজার সৈকতে ছিল সব বয়সী মানুষের আনন্দ-উল্লাস।
এদিকে কক্সবাজার আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘ঈদের পরের দিন সকাল থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে।’
‘শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজে ৯০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পাঁচ শতাধিক হোটেলের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৮৭ হাজার।’
সমুদ্র গোসল নিরাপদ করতে কাজ করছে সী-সেইফ লাইফ গার্ড। সংস্থাটির ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আগত পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্র স্নান নিশ্চিত করতে সমুদ্র সৈকতের তিনটি জনপ্রিয় পয়েন্ট সুগন্ধা, কলাতলীও লাবণী পয়েন্টে লাইফ গার্ডের ২৭ জন সদস্য কাজ করছে। এছাড়া সমুদ্র স্নানে নেমে যাতে কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে সে জন্য আগত পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে।’
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মহমুদ বলেন, ‘কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পর্যটন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটকেরা কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারেন সে জন্য যা যা করার প্রয়োজন সবকিছু করতে টুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’
মাদারীপুরে বেপরোয়া গতিতে চলা দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চার যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও দু’জন।
আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে শিবচর-জাজিরা সীমান্তবর্তী কুতুবপুর ইউনিয়নের সাহেব বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, শিবচর উপজেলার কুতুবপুর সাহেব বাজার এলাকার শাজাহান তালুকদারের ছেলে মিঠু তালুকদার, জাজিরার কলম ঢালীর কান্দি গ্রামের বাবুল ঢালীর ছেলে হৃদয় ঢালী। অপর দু’জনের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানা পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবা গোলচত্বর থেকে কুতুবপুরের সাহেববাজারগামী সার্ভিস রোডে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যুবক নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুই আরোহী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চারজনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
যশোরে ঈদের রাতে বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে অলিদ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪ জন।
গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিরামপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিদ (২০) যশোর সদর, উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নওদা গ্রামের সেনা সদস্য হৃদয় হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে বিরামপুর ব্রিজের ওপর আপন, রাশেদুল ও শামীম বাজি ফোটাচ্ছিল। এ সময় সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন অলিদ, পিয়াল, আরিফ ও মেহেদী। তারা দাবি করেন, বাজি তাদের গায়ে পড়েছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এর মধ্যে অলিদসহ অন্যরা আপন, রাশেদুল ও শামীমকে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করেন।
খবর পেয়ে আপনের বাবা রিপন আলী সেখানে গেলে তাকেও ছুরি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অলিদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত আপন, তার বাবা রিপন আলী, শামীম, অলিদ ও রাশেদুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় মারা যান অলিদ। আহতদের মধ্যে রাশেদুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর আপন, রিপন আলী ও শামীম যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র: ইউএনবি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩১ মার্চ) বিকালে উপজেলার আগরপুর–পোড়াদিয়া সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শামীম মিয়া (২৫) কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া নামাকান্দা গ্রামের কৃষক নোহাজ উদ্দিনের ছেলে এবং আল আমিন (২৭) লক্ষ্মীপুর কাছারীপাড়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়ার ছেলে। তারা দুজনই পেশায় কাঠমিস্ত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের দিন বিকালে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হন দুই বন্ধু শামীম ও আল আমিন। বিকাল ৩টার দিকে আগরপুর–পোড়াদিয়া সড়কের লক্ষ্মীপুর মধ্যপাড়া নামক স্থানে তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে অপর একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শামীম মিয়া।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আল আমিন। অজ্ঞাত অপর মোটরসাইকেলের আরোহী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তার পরিচয় জানা যায়নি।
কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হলো ফুলবাড়ীয়া উপজেলায়। ঈদের দিন বিকেলে ঘাটাইল উপজেলার জোড়দিঘী বাজারের কাছে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই কিশোর বন্ধু।
নিহতরা হলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও বাজারপাড়ার আজাহারুল ইসলামের ছেলে আশিক (১৬) এবং কাহালগাঁও মক্তবপাড়া গ্রামের আকরামের ছেলে মিনহাজ (১৬)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন আশিক ও মিনহাজ। জোড়দিঘী বাজারের কাছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই আশিক ও মিনহাজের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা স্বজনহারা হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
নওগাঁর সাপাহারে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শাহিন আলম (১৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই জন।
সোমবার (৩১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালাইবাড়ী-দিঘিরহাট আঞ্চলিক সড়কের মিরাপাড়া নামক স্থানে এই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিন আলম (১৭) পোরশা উপজেলার পশ্চিম হরিপুর গ্রামের মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে।
আহতরা হলেন, সাপাহার উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের তাহিরের ছেলে আহসান আলী(১৭) এবং জামিরুল(১৭), জামিরুল পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে।
সাপাহার থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বন্ধু মিলে ঈদে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন। অতিরিক্ত গতির কারনে মোটরসাইকেলটি মিরাপাড়া নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে শহিন আলম নিহত হন। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা বাকি দুই জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এর মধ্যে আহসান আলীর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
প্রায় ৬ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর সেখানে ১৯৮তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মুসল্লিদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল এই ঈদগাহ ময়দান।
সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় দেশের বৃহৎ এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। খুতবা শেষে বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া নামাজ শেষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের জন্য দোয়া করাসহ ফিলিস্তিনের গাজায় নিহত ও বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের গুলি ফুটিয়ে নামাজ শুরুর প্রস্তুতি নিতে সংকেত দেওয়া হয়।
এতে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজাবে রহমত, পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাসহ সর্বস্তরের প্রায় ৬ লাখ মানুষ।
নামাজ শেষে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনানো হয়, স্মরণকালের বৃহত্তম এবারের ঈদ জামাতে আনুমানিক ৬ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন।
এবার ঈদকে কেন্দ্র করে পাঁচ স্তরের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাঁচ প্লাটুন বিজিবিসহ র্যাব, পুলিশ, আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয় মুসল্লিদের। তাছাড়া প্রথমবারের মতো নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো সেনাবাহিনী।
জামাতে অংশগ্রহণ করতে সকাল থেকেই মুসুল্লিদের ঢল নামে শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহে। এ সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দূর থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।
একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে বিপুলসংখ্যক মুসুল্লি নিয়ে কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হজরত খান বাহাদুর কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি ১৮২৮ সনে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় সাত একর আয়তনের মাঠটিতে ২৬৫টি কাতার রয়েছে।