রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
গত মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এসব অভিযান চালায় ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অপরাধে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৯৯৮ টি ইয়াবা, ৬৫ কেজি ৬৬৪ গ্রাম গাঁজা, ১৬৮ দশমিক ৫ গ্রাম (৩৬০ পুরিয়া) হেরোইন ও ১৫ গ্রাম আইস উদ্ধার করা হয়
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪২টি মামলা করা হয়েছে বলে জানান ডিসি মারুফ হোসেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, সরকারের কাছে যথেষ্ট খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। গত বন্যায় আমন ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার খাদ্যশস্য আমদানি করছে। আর এবার হাওরসহ সারা দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে খাদ্য উদ্বৃত্ত হবে দেশ। আর কৃষক যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
গতকাল শনিবার কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে জিরাতি কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, কৃষক ও জিরাতিরা হলো দেশ উন্নয়নের প্রথম সারির সৈনিক। তারা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা যে ফসল ফলায়, তা দিয়ে আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য জোগান হয়। তিনি এ সময় হাওরের সেচ সমস্যা, মাছ ধরার অজুহাতে অবৈধভাবে খালবিল শুকিয়ে ফেলার প্রবণতা, সার বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, ফসল সংরক্ষণ ও এগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন।
খাল-বিল, নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মেঘনাসহ বড়বড় নদী গুলোও আজ নাব্যতা সঙ্কটে ভুগছে। হাওরের খাল-বিলগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে খাল খনন করা সম্ভব। আর বড় নদনদীগুলো খনন করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, হাওর এলাকায় এখন কৃষকরা কেবল ধান নয়, ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, সবজি, হাঁসমুরগি পালন, মাছচাষসহ নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত। কাজেই হাওর বিপুল সম্ভাবনাময় এক জনপদ। সরকার হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করছে।
এ সময় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জিরাতি শ্রমিকদের কাছে তাদের সমস্যাগুলো জানতে চান। বেশ কয়েকজন দিনমজুর ও শ্রমিক তাদের সেচ সমস্যা, রাস্তাঘাটের সংকট, খাওয়ার পানির অভাব নিয়ে কথা বলেন। তখন জেলা প্রশাসককে এগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। সভা শেষে উপদেষ্টা হাওরের বিভিন্ন বোরো খেত ঘুরে দেখেন। জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের সভাপতিত্বে ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলশাদ জাহানের সঞ্চালনায় কৃষক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, অষ্টগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমাদের এখানে হিন্দু-মুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা এখানে সবাই বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি হিসেবেই আমরা সবাই এখানে আছি। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সবসময় আছে। বাংলাদেশের মতো এত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই। আশপাশে দেখবেন কীভাবে কী ঘটছে। আমাদের দেশে সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী পুণ্য স্নানোৎসব পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৮ মিনিট থেকে স্নান উৎসবের লগ্ন শুরু হয়। যা শনিবার ৫ এপ্রিল রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এখানকার নিরাপত্তায় যারা জড়িত আছে তাদের আপনারা ধন্যবাদ দেবেন। তারা কিন্তু এবার খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে অন্যান্যবারের চেয়ে এবার নদীর পানি সবচেয়ে ভালো ছিল। এবার পুণ্যার্থীদের সংখ্যাও অনেক বেশি। আপনার সবাই ধৈর্য ধরে পুণ্যস্নান শেষ করবেন।
দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্বিঘ্নে, নিরাপদে বসবাস করছে উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে একটা শ্রেণি ফায়দা লোটার জন্য অনেক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মিথ্যা সংবাদকে সত্য সংবাদ দিয়ে কাউন্টার করতে হবে। আপনারা সত্য ও সঠিক সংবাদ প্রকাশ করুন। সঠিক সংবাদ প্রকাশ করলে কেউ যদি মিথ্যা সংবাদ করে তা স্বাভাবিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে। অনেকে মিথ্যা সংবাদ দিয়ে বেশি পয়সা আয় করে। আমাদের দেশের মিডিয়ার সঙ্গে অনেক বিদেশি মিডিয়ার ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তারাও অনেক সময় মিথ্যা সংবাদ দিতে চায়। কিন্তু আপনারা সত্যি সংবাদ দিয়ে মিথ্যাকে কাউন্টার করবেন। এতে করে তাদের মুখে চুনকালি পড়বে।
সরকারের অবস্থান থেকে তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি কোনো ভুল থাকে সেটা আপনারা প্রকাশ করেন। তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ দেবেন না। সত্যি সংবাদ দেবেন।’
লাঙ্গলবন্দ এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র করা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে এই স্থানকে কীভাবে পর্যটন কেন্দ্র করা যায় সে বিষয়ে আমরা দেখব। পর্যটনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি একটা পুণ্যভূমি। এই জায়গাটা ধর্মীয় জায়গা। এই জায়গাটা পর্যটন কেন্দ্র করতে গিয়ে যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মের বিষয়টা সবচেয়ে বড়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ আয়োজন ভবিষ্যতে আরও যেন ভালোভাবে হয় এ জন্য সবসময় আমাদের চেষ্টা থাকবে। সব সময়ই নদীর পানিও যেন ভালো থাকে সেজন্য আমরা কাজ করব। নদীর পানিটা ভালো রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, স্নানোৎসব উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংকর সাহা ও জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ‘পৃথক সচিবালয় বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’
গতকাল শনিবার রংপুরের স্থানীয় এক হোটেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আঞ্চলিক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া এ-সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজকের সেমিনারে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিতকরণে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন।’
দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের তার ঘোষিত সংস্কার রোডম্যাপ টেকসই করার উপায় উদ্ভাবনের আহবান জানিয়ে সেমিনারে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারিক সংস্কার শুধু বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কারের স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠিই নয়, বরং এটি এখন নিজেই ‘সংস্কার’ শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিচার বিভাগ হল রাষ্ট্রের একমাত্র অঙ্গ, যা বহু দশক ধরে নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এই দাবির কেন্দ্রে রয়েছে নিজেদের সংস্কার কর্মসূচি নিজেরাই নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। গত আট মাসে এই প্রচেষ্টা অভূতপূর্ব গতি অর্জন করেছে। এখন লক্ষ্য হল সেই উদ্দেশ্য পূরণ করা এবং তা যেন ভবিষ্যতেও টিকে থাকে তা নিশ্চিত করা। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, আমরা কখনও ক্ষমতার পূর্ণ পৃথকীকরণের লক্ষ্যের এতটা কাছাকাছি আসিনি। যদি এই সুযোগ কোনোভাবে নষ্ট হয়, তবে তা বিচার বিভাগের মর্যাদা, অখণ্ডতা এবং প্রাসঙ্গিকতার জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।’
বিচার বিভাগ সংস্কারকে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করার জন্য প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ দেশের সব পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘দায়িত্ব গ্রহণের’ আহবান জানান।
প্রধান বিচারপতি পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
পৃথক সচিবালয় বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিচারিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তৃতায় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপকে যুগোপযোগী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
বরবার পিছিয়ে গেলেও এবার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ২০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে ১৮১তম অবস্থানে। এ সূচকে গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮২তম। আর প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে উত্তর ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র আয়ারল্যান্ড।
গত শুক্রবার কর ও অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থা নোমাড ক্যাপিটালিস্টের হালনাগাদ সূচকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তালিকায় ৩৮ স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ১৮১তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসামুক্ত অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বিশ্বের ৫০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।
গত বুধবার এক প্রতিবেদনে সিএনবিসি নিউজ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচক প্রকাশিত হয়।
নোমাডের হালনাগাদ তালিকায় বাংলাদেশের ঠিক আগে আছে নেপাল (স্কোর ৩৯ দশমিক ৫) এবং পরে আছে মিয়ানমার (স্কোর ৩৭ দশমিক ৫)। অপর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান সূচকে ১৪৮ তম (স্কোর ৪৭ দশমিক ৫) এবং পাকিস্তানের অবস্থান ১৯৫তম (স্কোর ৩২)। শীর্ষে থাকা আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্ত স্কোর ১০৯। এ দেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড ও গ্রিস। দেশগুলোর প্রাপ্ত স্কোর ১০৮ দশমিক ৫। আর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে পর্তুগাল ও মাল্টা। দেশগুলোর স্কোর যথাক্রমে ১০৮ ও ১০৭ দশমিক ৫।
তালিকায় সবচেয়ে দুর্বল (১৯৯তম) পাসপোর্টের দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির আগের তিনটি দেশ যথাক্রমে ইরাক, ইরিত্রিয়া এবং ইয়েমেন।
এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে নোমাডের পাসপোর্ট সূচকে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তকমা পেয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। হালনাগাদ তালিকায় ১০৬ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের এ দেশটি। দশম অবস্থানে থাকলেও আমিরাতের নাগরিকরা তালিকায় শীর্ষে থাকা আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের তুলনায় অতিরিক্ত ৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
বহুপক্ষীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ (বিমসটেক) ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়েছে ভিশন ডকুমেন্ট হিসেবে ‘ব্যাংকক ভিশন-২০৩০’। গতকাল শনিবার বিমসটেকের প্রধান অফিস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২ এপ্রিল ২৫তম বিমসটেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভা এবং ৩ এপ্রিল ২০তম বিমসটেক মন্ত্রিপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী জেনারেল মিন অং হ্লাইং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হারিনী আমারাসুরিয়া এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়োংটার্ন সিনাওয়াত্রা।
‘সমৃদ্ধ, সহিঞ্চুতা এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানো ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। বিমসটেকের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই আঞ্চলিক সংস্থাকে একটি নতুন প্রেরণা দেয়। ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের মূল ফলাফলগুলো, ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্র গ্রহণ, যা নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার জন্য তাদের সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশনা প্রতিফলিত করে।
বিমসটেকের প্রথম ভিশন ডকুমেন্ট, ব্যাংকক ভিশন ২০৩০ গৃহীত হয়েছে, যা সমৃদ্ধ, সহিষ্ণুতা এবং উন্মুক্ত বিমসটেকের দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত এবং বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রদান করে। সামুদ্রিক পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সামুদ্রিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক অংশীদারত্ব জোরদার করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বাণিজ্য এবং ভ্রমণ সক্ষম করবে।
বিমসটেক এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যা আইওআরএ এবং বিমসটেকের মধ্যে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। বিমসটেক এবং জাতিসংঘের মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রক অফিসের (ইউএনওডিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যা ইউএনওডিসি এবং বিমসটেকের মধ্যে অংশীদারত্বকে ভাগাভাগি করবে।
বিমসটেক মেকানিজমের জন্য কার্যপ্রণালি গৃহীত। বিমসটেক সনদের সাথে কার্যপ্রণালির নিয়মাবলি, বিমসটেকের অধীনে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করে, যা বৃহত্তর দক্ষতা এবং ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
বিমসটেকের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গোষ্ঠীর প্রতিবেদন গ্রহণ, যাতে বিমসটেককে সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ রয়েছে।
গত ২৮ মার্চ মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডে আঘাত হানা ভূমিকম্পের প্রভাব সম্পর্কে বিমসটেক নেতাদের যৌথ বিবৃতির অনুমোদন। এটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে সমর্থন করার জন্য নেতাদের সমবেদনা, সংহতি এবং প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। এটি আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বিমসটেক নেতারা শীর্ষ সম্মেলনে তাদের বিবৃতিতে বিমসটেকের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এবং উদ্যোগ উপস্থাপন করেছেন। তারা আন্তআঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি বিনিময়, জলবায়ু কর্মকাণ্ড, সবুজ ও নবায়নযোগ্য শক্তি, টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা বাড়াতে অগ্রগতি অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে, নেতাদের উদ্দেশ্যে তার প্রতিবেদনে, ২০২২ সালের মার্চে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ৫ম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের পর থেকে প্রাপ্ত অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। তিনি এই অঞ্চলের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য বিমসটেক এজেন্ডাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের নির্দেশনা চেয়েছেন।
বিমসটেকের অধীনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সদস্য দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য সচিবালয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শীর্ষ সম্মেলন শেষে বিমসটেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশ, বিমসটেকের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিমসটেক সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নতুন করে পাল্টা শুল্ক কর আরোপ করার সময় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশে ফেরার পর গতকাল বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কর আরোপের কারণগুলো খতিয়ে দেখা হয়। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বেশি রপ্তানি করে তুলনায় দেশটি থেকে আমদানি কম হওয়ার কারণেই এই পাল্টা শুল্কভার চেপে বসায় অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় হতে পারে সেখান থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানো। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে বের হয়ে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি সরকার গভীরভাবে বিবেচনা করছে।
এছাড়া নতুন শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আজকের সভা হয়েছে। এখানে উপদেষ্টা পরিষদসহ অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিল। নতুন এই অবস্থায় বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার ক্ষেত্রে আমরা আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করছি। শুল্ক ছাড়াও আমাদের বাণিজ্যের বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাধা আছে। সেগুলো অপসারণ করলে আমাদের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি।
তিনি বলেন, ভিয়েতনাম, চায়না, কম্বোডিয়া এসব প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের পণ্য অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিতে পারে বলে আশাবাদী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতেও শুল্ক বেড়েছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে বৈচিত্র্য থাকায় সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।
এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
সেখানে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা এখনো যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় আছি। দু-এক দিন এই আলোচনা চলবে। আমরা তাদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাব বলে ধারণা করছি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত চার্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তাই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ ‘ডিসকাউন্টেড রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ ধার্য করা হয়েছে।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ৪৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৬ শতাংশ, তাইওয়ানে ৩২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩২ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডে ৩১ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫ শতাংশ, জাপানে ২৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ, ইসরায়েলে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনে ১৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্ক, ব্রাজিল, চিলি এবং অস্ট্রেলিয়ায় ১০ শতাংশ করে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে যেসব পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে বড় অঙ্কের শুল্ক বসানোর প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের মধ্যে যে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তরফে সরকারি বিভিন্ন আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ থাকছে।
এলএনজি ও গমসহ যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সম্ভব এবং সরকারেরও প্রয়োজন তা সেখান থেকেই বাড়তি খরচ হলেও আমদানি করে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য এনবিআরের পরামর্শের বিষয়টি বলেছেন সংস্থার একজন কর্মকর্তা।
এনবিআরের নীতি শাখার ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এর বাইরে তারা কিছু পণ্যের তালিকা করে দিয়েছেন, যেগুলোর আমদানি শুল্ক কমানো যায়।
এদিন এনবিআরের নীতি শাখা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পণ্যের আমদানি পর্যায়ে কত শুল্ক রয়েছে, কোথায় কত প্যারা ট্যারিফ বা শুল্ক রয়েছে এবং তা থেকে কত শুল্ক আদায় হয় তা বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণ প্রস্তুত করেছে বলে এ কর্মকর্তা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকা থেকে যে পণ্য আমরা আনি, যেখানে বলা হয়েছে যে আমরা ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি, এটা ভুল। আমাদের রিভিউ করে দেখা গেছে, আমাদের ইফেক্টিভ রেট হচ্ছে ৫ শতাংশেরও কম। তার মানে হচ্ছে, আপনি যদি ইমপোর্ট না বাড়ান, আর আপনি যদি ডিউটি (শুল্ক) জিরোও করে দেন, লাভ নাই। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, ইমপোর্ট ডিউটি জিরো করলেও যে ইমপোর্ট বাড়বে তা কিন্তু না।’
প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে। এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, যা এখন বেড়ে হল মোট ৫২ শতাংশ।
এনবিআরের ওই কর্মকর্তা জানান, এনবিআর ১০টি পণ্যের তালিকা তৈরি করে দিয়েছে এর মধ্যে বাল্ব, জেনারেটর, জেনারেটিং সেট, ইলেকট্রিক্যাল আইটেম এসব রয়েছে।
তবে এসব পণ্যের শুল্ক কমালেই যে আমদানি হবে সে নিশ্চয়তা নেই তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে যদি ইমপোর্ট (আমদানি) বাড়াতে হয় তাহলে সরকারের কিছু ফোর্স ইমপোর্ট (আমদানি) বাড়াতে হবে। যেমন গতবছর গভর্নমেন্ট এলএনজি ইমপোর্ট করেছে, এ বছর করে নাই। এটা করতে পারে। গম, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনতে পারে।’
অন্য দেশ থেকে না এনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনায় খরচ বাড়বে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ফিজিবল কিনা চিন্তা করার সুযোগ নাই।’
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বাজার রক্ষায় এ পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এ মুহূর্তে কার্যত সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক মিলে টানা ৯ দিনের লম্বা ছুটি শেষে আজ সরকারি অফিস খুলেছে।
আজ রোববার থেকে সরকারি অফিস, উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রোজার আগের সময় সূচি ধরেই চলবে।
গত ২৮ মার্চ থেকে শনিবার (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ছুটি কাটানোর পর সরকারি চাকরিজীবীরা যোগ দিয়েছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে।
ঈদ শেষে গ্রামের বাড়িতে থেকে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশিরভাগই শনিবারের মধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন।
এবার ঈদের আগে ২৮ মার্চ (শুক্রবার) ছিল শবে কদরের ছুটি। ২৯ মার্চ (শনিবার) থেকে শুরু হয় ঈদুল ফিতরের ছুটি, টানা পাঁচদিনের ছুটি (২৯, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল) ছিল ২ এপ্রিল পর্যন্ত।
এরপর মাঝখানে ৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা ছিল, সেদিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর আবার ৪ ও ৫ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি।
রোজা ও ঈদের ছুটি শেষে আগের নিয়মে ফিরবে সরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংক। রমজান মাসে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। রবিবার থেকে আগের মতোই অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। আর দেশে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারী দুই লাখের বেশি।
সরকারি সফরে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আজ রোববার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
রাশিয়া সফর শেষে আগামী ১০ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সফরকালে তিনি উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র তৈরির কারখানা পরিদর্শন করবেন।
দুদেশ সফর শেষে আগামী ১২ এপ্রিল তিনি দেশে ফিরবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে সাড়ে ২০ লাখ মৃত ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া তালিকায় যুক্ত হতে পারে ৬০ লাখ নতুন ভোটার।
মাঠপর্যায় থেকে পাঠানো তথ্য একীভূত করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৈরি করা এক প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৬০ লাখ ৮৩২ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ২৮ লাখ ২৯ হাজার ২২৮ জন, নারী ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ রয়েছে ১ হাজার ৫৫ জন। এদের মধ্যে ছবি তুলে ও আঙুলের ছাপ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৪ জন। এ ছাড়া মারা যাওয়ায় ২০ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৬ জনকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৮১ হাজার ২০৫ জন, নারী ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৫০ জন এবং হিজড়া ৫৭৩ জন। এবারের হালনাগাদে নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।
সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে শনিবার মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের দমকা হাওয়া ও হালকা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এই তথ্য জানিয়েছে।
সন্ধ্যার পর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়। তার আগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। চৈত্র মাসে ধূলিঝড়ে রীতিমতো নাকাল হয়ে পড়ে রাজধানীবাসী।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। কালবৈশাখীর মৌসুম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানেই এমন ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকার বাইরে নরসিংদী, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, সিলেট, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ এবং খুলনায় এই দমকা হাওয়াসহ বজ্রঝড় হয়েছে।
আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশ দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগসহ দিনাজপুর, সৈয়দপুর, ফেনী, মৌলভীবাজার, বরিশাল এবং পটুয়াখালী জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (০৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হযেছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ৯ দিনের সরকারি ছুটিতে ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এক কোটি সাত লাখ ২৯ হাজার ১৫৫ মোবাইল সিম ব্যবহারকারী ঢাকা ছেড়েছেন। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক এই চার কোম্পানির সিম ব্যবহারকারীদের ওপর ভিত্তি করে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।
এ ব্যাপারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে জানান, ঈদের ছুটির সাত দিনে এক কোটি ৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিপরীতে ৪৪ লাখ মোবাইল সিম ব্যবহারকারী ঢাকায় প্রবেশ করেছেন।
ঈদে কতজন ঢাকা ছেড়ে অন্য গন্তব্য যান, এর সঠিক হিসাব না থাকায় প্রাথমিকভাবে প্রতিবছর সিম ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি ধারণামূলক হিসাব করা হয়। এতে যারা মোবাইল ব্যবহার করেন না, বিশেষ করে শিশুরা তাদেরকে হিসাব থেকে বাদ দিতে হয় এবং যারা একাধিক সিম ব্যবহার করেন, তাদের সংখ্যাও হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন ঈদের আগের দিন ৩০ মার্চ। এদিন ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬১ ব্যবহারকারী ঢাকা ছাড়ার তথ্য জানিয়েছে বিটিআরসি।
২৮-৩১ মার্চ এই চারদিনে ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮৫ সিম ব্যবহারকারী ঢাকা ছেড়েছেন।
ঈদের পরেও ব্যাপক মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন, যা উঠে এসেছে সিম ব্যবহারকারীদের তথ্য যাচাই করে। ঈদের পরদিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৭০ সিম ব্যবহারকারী ঢাকা ছেড়েছেন।
আগামীকাল রোববার থেকে সরকারি অফিস-আদালত এবং ব্যাংক চালু হওয়ায় ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে বাড়ি ফেরত মানুষ। ইতোমধ্যে ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ২৭৯ সিম ব্যবহারকারী ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। গতকাল শুক্রবার সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭৯ সিম ব্যবহারকারী ঢাকায় ফিরেছেন।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের হিসাবে, ঢাকার জনসংখ্যা এখন সোয়া দুই কোটির মতো। এর মধ্যে এক কোটির বেশি মানুষ ঈদে অন্য কোনো জেলায় যান বলে ধারণা করা হয়।
৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর ধরে আগেই ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এর আগে-পরে (২৯ ও ৩০ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল) চার দিন ছুটি দেওয়া হয়েছিল নির্বাহী আদেশে। ঈদের ছুটি শুরুর আগে ২৮ মার্চ পড়েছে শুক্রবার। ছুটি শেষে অফিস খোলার কথা ছিল ৩ এপ্রিল। সেদিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়।
তার পরের দুই দিন আবার সাপ্তাহিক ছুটি। সে হিসাবে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা নয় দিনের ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবীরা। ছুটি শেষে অফিস খুলবে আগামীকাল রবিবার (৬ এপ্রিল)।
সূত্র: ইউএনবি
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলসহ কোনো জায়গায়ই কোনোভাবেই ময়লা পোড়ানো যাবে না।
ময়লার ভাগাড় ও আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মাতুয়াইলে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন শেষে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
এই ময়লার ভাগাড় মাতুয়াইল থেকে অচিরেই পুরোপুরি সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দুটি স্টিলমিল বন্ধে নির্দেশ দেয়া হবে।’
রিজওয়ানা বলেন, ব্যাটারি পোড়ানো বা ব্যাটারির সিসা আলাদা করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যাটারি কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আবারও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ একটি স্বাস্থ্যঝুঁকির রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ম ভাঙলে জরিমানার কার্যকর প্রয়োগ করা হবে।
শনিবার উপদেষ্টা পর্যায়ক্রমে মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল, যাত্রাবাড়ীর সামাদনগর, নরসিংদী রোড, চিটাগং রোড, কাচপুর, যাত্রাবাড়ী, শরীফপাড়াসহ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বায়ুদূষণ প্রবণ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
উপদেষ্টা পরিদর্শিত এলাকাগুলোতে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত উদ্যোগগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্থানীয়রা দূষণের কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানান।
দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল (ময়লার ভাগাড়) দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখানে ময়লা পোড়ানো বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ারও জোর দাবি তাদের। আজ উপদেষ্টাকে তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শাহজাহান মিয়া, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পরিবেশ) রুবিনা ফেরদৌসী, বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক আরএসএম মুনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইউএনবি
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে প্রবেশে অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপের ঘটনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শীর্ষপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা এবং কর্মকর্তারা বৈঠকে যোগ দেবেন।
গেল ৩ এপ্রিল আকস্মিক এই শুল্কারোপে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত। এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কিছুটা কমে আসবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা। এতে ভারত ও পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যাবে বলেও মনে করেন তারা।
তাদের ভাষ্যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, পাশাপাশি টিকফা চুক্তির আলোকে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বসতে হবে।
দুদেশের স্বার্থের ব্যাপারে সমঝোতা করলে বাংলাদেশের ওপর যে শুল্কারোপ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তা তুলে নিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তারা। বাংলাদেশ যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তৈরি পোশাক খাতের অর্ডার ভারত, তুরস্ক, মিসর ও হন্ডুরাসের মতো দেশগুলোতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।