বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠা তুরস্কের শাসনভার রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হাতেই থাকছে। তৃতীয় দফায় দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
রোববার রানঅফ নির্বাচনে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ ভোটে পেয়ে আবারো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আল জাজিরা জানিয়েছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট।
পুরো বিশ্বের মত তুরস্ককেও রেকর্ড মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ভোটের তিন মাস আগে হওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে অর্ধলক্ষের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় যথাযথভাবে সাড়া দিতে না পারার জন্য দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে এরদোয়ান নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ফলে ভোটের আগের জনমত জরিপগুলো ৬৯ বছর বয়সী এরদোয়ানের পক্ষে রায় দিচ্ছিল না।
কিন্তু গত ১৪ মের ভোটে হিসাব পাল্টে গেছে। প্রাথমিক ভোটে তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু থেকে প্রায় ৫ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। তবে অল্পের জন্য রানঅফ এড়াতে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হন। সেবার এরদোয়ান ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলন। ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন কামাল কিলিচদারোগ্লু।
তুরস্কের নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে তা দেখতে শুধু তুর্কীরাই নয় বরং পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।
সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরুর পর বুথ বন্ধ করা হয় বিকেল ৫টায়। দেশটির গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহকে তুরস্কের সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের (ওয়াইএসকে) প্রধান আহমেত ইয়েনার জানান, সুষ্ঠুভাবে দিনব্যাপী ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট প্রদান করেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এই রানঅফ নির্বাচনে দেশটিতে ৬৪ দশমিক ১ মিলিয়নেরও বেশি লোক ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধিত হন। যার মধ্যে ১ দশমিক ৯২ মিলিয়নেরও বেশি বিদেশি ভোটার। তারা বিদেশ থেকে তাদের ভোট প্রয়োগ করেন।
এবারের রানঅফ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এরদোয়ানকে অনেকটা কঠিন পরীক্ষায় মুখোমুখি হতে হয়েছে। দেশটির মুদ্রার ধারাবাহিক দরপতন, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যসামগ্রীর চড়া দাম, অর্থনৈতিক সংকট এবং সর্বশেষ দেশটিতে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারানোয় তার জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। যার প্রভাব পড়েছিল ভোটের ময়দানে। তবে শেষ হাসি হাসলেন এরদোয়ানই।
বিতর্কিত ওয়াকফ বিলের প্রস্তাব পেশ করার পর থেকেই ভারতজুড়ে শুরু হয়েছিল সমালোচনার ঝড়। তবে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলটি এরই মধ্যে ভারতের সংসদে পাস হয়েছে। এখন এটিতে শুধু রাষ্ট্রপতির সইয়ের অপেক্ষা। এই সংশোধনী বিলটি পাসের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। গতকাল শুক্রবার কলকাতার পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্টে ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের নামে হাজার হাজার মানুষ।
পোস্টার, পতাকা, স্লোগান দিয়ে বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিতে শোনা যায়। এই সমাবেশের পর কার্যত সেভেন পয়েন্ট অবরুদ্ধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এক পর্যায়ে তাদেরকে সামাল দিতে নামানো হয় পুলিশ বাহিনী।
কলকাতার পার্ক সার্কাসের পর আসানসোলেও এই বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে পথে নামেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে আসা মো. জামাল উদ্দিন শেখ বলেন, আমারা এই বিলের প্রতিবাদে আসানসোল বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিলাম। আগামী দিনে যদি এই বিল না ফেরত নেওয়া হয় তাহলে কলকাতা থেকে আসানসোল পর্যন্ত অবরোধ করা হবে।
অপর আরও এক বিক্ষোভকারী আব্বাস আলী খান জানিয়েছেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদেই আমরা সবাই একত্রিত হয়ে এই বিলের প্রতিবাদ করছি। কেন্দ্রীয় সরকার যদি এখনো এই ওয়াকফ বিল ফেরত না নেয় তাহলে এর থেকেও বড় আন্দোলনে যাওয়া হবে।
ওয়াকফ বিল নিয়ে মুসলিমদের আপত্তির কারণ কী?
ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল আপত্তির মধ্যেও লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়েছে বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫। বুধবার গভীর রাতে লোকসভায় এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদন পায়। ৭০ বছরের পুরোনো ওয়াকফ আইনে পরিবর্তন আনতে আনা এই বিল এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায়, যা হলে এটি আইনে পরিণত হবে। বিরোধী দলের দাবি, নতুন সংশোধনীর ফলে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব হয়ে যাবে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
নতুন এই সংশোধনী আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং আয় বাড়ানো। সংসদীয় বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮ লাখ ৭২ হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে রাজস্ব আহরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে আয় হচ্ছে খুব কম। ২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫ লাখ ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা আয় হয়েছিল, যেখানে আয় হওয়া উচিত ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। নতুন আইনের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়বে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে দাবি করেন রিজিজু।
তবে বিরোধী দলগুলো এবং মুসলিম সংগঠনগুলো এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে এবং অমুসলিমদের বোর্ডের সদস্য করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বোর্ডের কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলবে। বিরোধীদের দাবি, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সম্পত্তির ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল। নতুন আইনে সরকারি সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি করার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই বিল নিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার তুমুল বিতর্ক চলে। বিরোধীরা বিলের বিরুদ্ধে সরব হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে বিলটি ১২৮-৯৫ ভোটে পাস হয়। ভোটের মাধ্যমে বিরোধীদের দাবি নাকচ করে সরকার বলছে, নতুন এই আইন মুসলিম সমাজের গরিব, নারী ও অনাথ শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়া এই বিলকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি দরিদ্র মুসলিমদের রক্ষা করবে এবং সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে এবং এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ওয়াকফ ঘোষণার আগে তার সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও অনাথদের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আয় যদি এক লাখ টাকার বেশি হয়, তবে সেটির নিরীক্ষা করাতে হবে এবং রাজ্যের নিরীক্ষকরা এটি তদারকি করবেন। এর পাশাপাশি, কোনো সরকারি জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি করা হলে, তার তদন্ত করবেন জেলা কালেক্টরের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংশোধনীর ফলে ওয়াকফ বোর্ড আরও কার্যকর হবে এবং সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন আইন মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওয়াকফ বোর্ডের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতে মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর পড়বে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, ফরাসি অতি-ডানপন্থী নেতা মেরিন লী পেনকে খুব ছোটখাটো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া ‘এটা গণতন্ত্র নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ভ্যান্স নিউজম্যাক্স টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, `তারা তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করার জন্য এবং নির্বাচনে থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে, দেখুন, ‘এটা গণতন্ত্র নয়।’
তিনি বলেন, ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ’কিছু জরিপে লী পেন এগিয়ে ছিলেন এবং ’অবিশ্বাস্যভাবে ছোট অভিযোগে লী পেনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
২০২৭ সালের নির্বাচনে একজন শীর্ষস্থানীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত লে পেনকে সোমবার একটি ফরাসি আদালত ইউরোপীয় ইউনিয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং পাঁচ বছরের জন্য তাকে সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে লী পেনের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তুলনা তার নিজের আইনি লড়াইয়ের সাথে তুলনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে ‘খুব বড় বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন ‘লী পেনের ওপর পাঁচ বছর ভোটে লড়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমাদের দেশেও এ রকম হয়েছে।’
একজন পর্ন তারকাকে চুপ থাকার জন্য ব্যবসায়িক রেকর্ড জালিয়াতির অভিযোগে নিউইয়র্কে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা দুটি ফেডারেল ফৌজদারি মামলা বাতিল করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও দেশটির সংস্থাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত শুল্ক একটি ‘জাতীয় সঙ্কট’। কারণ, তিনি দেশের ওপর এর প্রভাব কমাতে আন্তঃদলীয় আলোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শিগেরু ইশিবা সংসদে বলেন, শুল্ক আরোপকে ‘একটি জাতীয় সংকট বলা যেতে পারে এবং সরকার সকল পক্ষের সাথে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনার জন্য ‘ঠান্ডা মাথার’ দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান জানিয়ে, ইশিবা তার মন্ত্রীদের শুল্ক ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করার এবং দেশীয় শিল্পের জন্য ‘অর্থায়ন সহায়তা এবং কর্মসংস্থান রক্ষাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ।
ফিলিস্তিনের রাফাকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে শহরটির দখল নিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। গাজায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের ফলে নতুন করে গৃহহীন হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। গাজার দক্ষিণ প্রান্তে মিসর সীমান্তের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর রাফায় যুদ্ধবিরতির পর গত মাসেই কেবল ফিরতে পেরেছিলেন বাসিন্দারা। তবে দুই মাসের মধ্যেই ইসরায়েলের বাহিনী আবার অভিযান শুরু করায় রাফা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, রাফায় ইসরায়েলি অভিযানে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। রাফা থেকে খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া একজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, রাফায় শেষ হয়ে গেছে। সেখানে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
তিনি আরও বলেন, অবশিষ্ট যেসব ঘরবাড়ি রয়েছিল, সেগুলোও তারা এখন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। খান ইউনিসেও এক হামলায় কয়েকজন মারা যাওয়ার পর আদেল আবু ফাখের তার তাঁবুতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছিলেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এখানে কোনো কিছু কি অবশিষ্ট আছে? আমাদের জন্য কিছুই নেই। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থাতেই আমাদের মেরে ফেলা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর গাজার বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে শুরু করেছিলেন। তবে নতুন করে ইসরায়েলের অভিযানের মুখে গাজার বাসিন্দারা স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা করছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম সময়সীমা মার্চের শুরুতে শেষ হয়ে গেলেও তা বাড়ানোর জন্য কোনো চুক্তি হয়নি।
এরই মাঝে ইসরায়েল গাজার বসবাসরত ২৩ লাখ বাসিন্দার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ত্রাণ সরবরাহ সবদিক থেকেই বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে যুদ্ধবিরতিতে পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি হলেও এখন আবার গাজার মানবিক বিপর্যয় চলছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১২ জন নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে। এর মধ্যে গাজা সিটি স্কুলে হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, গাজার উপত্যকার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ জায়গায় এখন আর কোনো ‘নিরাপদ’ অঞ্চল নেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার জেরে গাজার হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন।
বিপুলসংখ্যক গাজাবাসীর আশ্রয় নেওয়া রাফা দখলের ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরের দিকে অঞ্চল অগ্রসর হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার গাজাবাসীর শেষ আশ্রয়স্থল ছিল রাফা।
মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের নৃশংস ও নির্বিচার হামলায় ১১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা শহরের উত্তরের শহরতলী শেজায়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় নারী, শিশুসহ ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।
চিকিৎসাকর্মীরা বলছেন, গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় দার আল-আকরাম স্কুলে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাফা থেকে পাশের খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া সাত সন্তানের এক বাবা একটি চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, রাফা শেষ। সেখানকার সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাবা বলেন, রাফাতে যে কয়টি ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি দাঁড়িয়ে আছে, সে সবকিছু তারা ধ্বংস করে ফেলছে।
ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে গত মাসে আবার গাজায় আগ্রাসন শুরুর পর রাফা দখল করতে নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা শহরের উত্তরের শেজায়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রাণভয়ে ওই এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে হেঁটে, অনেকে গাধার গাড়ি আবার অনেকে মোটরসাইকেল ও ভ্যানে চড়ে পালাচ্ছেন।
সেখানকার বাসিন্দা উম্ম আয়েদ বারদা বলেন, ‘আমি মরতে চাই। তাদের আমাদের মেরে ফেলতে এবং এই জীবন থেকে মুক্তি দিতে দিন। আমরা এমনিতে বেঁচে নেই। আমরা মৃত।’
আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। ট্রাম্প জানান, তিনি বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি আশা করছেন, ইসরায়েলি নেতা সম্ভবত আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে নেতানিয়াহুই প্রথম তার সঙ্গে দেখা করেন।
গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আইসিসি গত নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তিনি বৃহস্পতিবার হাঙ্গেরি সফর করেন। এই প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে পা রাখলেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্কনীতির ঘোষণা দেন। এদিকে, নতুন এই শুল্কনীতির কড়া সমালোচনা করেছে ইউরোপ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভন ডার লিয়েন সতর্ক করেছেন, এই শুল্কের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তারা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তিনি বলেন, এটি সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করার খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে প্রথম দফার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইস্পাত খাতে শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি চীনের
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এর বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এক মতামত প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘শুল্কের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইতিহাস প্রমাণ করেছে, শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যই ক্ষতিকর এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কোন দেশের ওপর কত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করছেন, তার একটি তালিকা তুলে ধরেছেন।
এই তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা উল্লেখ আছে।
এ ছাড়া কম্বোডিয়ায় ৪৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৬ শতাংশ, তাইওয়ানে ৩২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩২ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডে ৩১ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫ শতাংশ, জাপানে ২৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ, ইসরায়েলে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনে ১৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্ক, ব্রাজিল, চিলি, অস্ট্রেলিয়া এবং কম্বোডিয়ায় ১০ শতাংশ করে শুল্ক আরোপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, যা বাংলাদেশ বা ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় কম। রয়টার্স লিখেছে, এর ফলে ভারতের পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে।
ছাড় পেল না জনমানবহীন দ্বীপও
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্কনীতির ঘোষণা দিতে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে হাজির হলে অনেক দেশই কঠোর পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে কেউ কল্পনাও করেনি যে, তিনি জনমানবশূন্য দ্বীপের ওপরও শুল্ক আরোপ করবেন।
ট্রাম্প প্রশাসন সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের সাব-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের জনমানবহীন হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জও। সেখানে কোনো মানুষ বসবাস করে না।
ঘোষণার সময় ট্রাম্প একটি পোস্টার ব্যবহার করে দেখান, কোন কোন দেশ ও অঞ্চল তার নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে। সাংবাদিকদের দেওয়া এক নথিতে উল্লেখ ছিল, এই দ্বীপগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা ‘মুদ্রা হস্তক্ষেপ ও বাণিজ্য বাধা’ তৈরি করে। প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর ‘ছাড়কৃত প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ আরোপ করেছে।
অস্ট্রেলীয় সরকারের ওয়েবসাইটে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও বন্যতম স্থান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের তথ্য অনুসারে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টল বন্দর থেকে নৌপথে সেখানে পৌঁছাতে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে প্রায় ১০ দিন সময় লাগে।
এই দ্বীপগুলো বিভিন্ন সংরক্ষিত প্রজাতির পেঙ্গুইন, সিল ও পাখির আবাসস্থল। জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই দ্বীপগুলোতে প্রায় এক দশক ধরে মানুষের কোনো উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পৃথিবীর কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়।
হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার আরও কিছু বহিরাগত অঞ্চল ট্রাম্পের শুল্ক তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ, ক্রিসমাস দ্বীপ এবং নরফোক দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। হাজার দুয়েক মানুষ বসবাস করা নরফোক দ্বীপের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা মূল অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় ১৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা তিন হাজার তিনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটিতে গত শুক্রবারের পর থেকে একের পর এক কম্পন অনুভূত হয়েছে। বুধবার রাতেও ৪.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। গত শুক্রবারের জোরালো ভূমিকম্পের পর থেকে এখনো মাঝে মধ্যে কম্পন (আফটারশক) হয়ে চলছে মিয়ানমারে। বুধবার রাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে মিয়ানমারে।
ভারতের ভূবিজ্ঞান সর্বেক্ষণ সংস্থা (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি) অনুসারে, বুধবার কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৮। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ কিলোমিটার গভীরে কম্পনটি অনুভূত হয়েছে। বুধবার বিকেলে ৪.৩ মাত্রার আরো একটি কম্পন অনুভূত হয়েছে মিয়ানমারে।
এদিকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে ৩০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি চলছে। তার মধ্যে এই ভূমিকম্পে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দেশটির জান্তা-বিরোধী পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স আগেই ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। বুধবার মায়ানমারের জুন্টা সেনাও সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।
গত শুক্রবার সকালে প্রথমে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমারের মাটি। তারপর থেকে পর পর ১৫ বার ভূকম্প-পরবর্তী কম্পন হয়েছে সে দেশে। ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে পড়েছে বহু ভবন, রাস্তা, সেতু। আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ। খোঁজ মিলছে না ৪ শতাধিক মানুষের।
এরই মধ্যে বুধবার মিয়ানমারের এক হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক যুবককে। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডেও। দেশটির রাজধানী ব্যাংককে একটি নির্মাণাধীন ৩০তলা ভবন ভেঙে পড়ে। সেখানে বহু মানুষের মৃত্যুর কথা জানা গেছে। উদ্ধারকারীদের ধারণা, এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের খুঁজে বের করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা জান্তার
মিয়ানমারে ভূমিকম্পের সময় মসজিদে অবস্থানকারী সাত শতাধিক মুসল্লি নিহত হয়েছেন। দুর্যোগে দুর্গম এলাকায় জরুরি ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ভূমিকম্পে দেশটির অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে; লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু। ভূমিকম্পবিধ্বস্ত অনেক এলাকায় আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকারি সহযোগিতা চাওয়ার পর বুধবার মিয়ানমারের জান্তা ২০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি।
ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তা করতে এ যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে জানিয়ে বিদ্রোহীরা হামলা চালালে পাল্টা ‘যথোপযুক্ত ব্যবস্থা’নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে জান্তা। ভূমিকম্পের পর দেশটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক চাপ ছিল। মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের বড় একটি জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সও এক মাসের একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল।
এদিকে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশটিতে চীনা দূতাবাসের ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য স্থানীয় রেড ক্রসকে ১৫ লাখ ইউয়ান (২,০৬,৬৮৫ ডলার) মূল্যের নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চীনা রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহরে মিয়ানমার জান্তার গুলির ঘটনাও ঘটেছে। বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে আসা একটি দলের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি চালায়।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দাবি, গুলির ঘটনাটি সতর্কতামূলক ছিল। গাড়িবহরটি এ অঞ্চল দিয়ে যাবে, তা তাদের জানানো হয়নি। বহরটি থামানোর জন্য গুলি চালানো হয়, তবে কেউ আহত হয়নি।
ভূমিকম্পে ছয়টি অঞ্চলের ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে খাদ্য, আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য জরুরি তহবিলে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবারও মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যেসব অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তার লড়াই চলছে, সেসব অঞ্চলে ত্রাণ সহায়তা চ্যালেঞ্জের মুখে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ভূমিকম্প জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ত্রাণ সহায়তা পাঠানোয় কূটনৈতিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ‘মুক্তি দিবস’ এর দিন নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বকে এমন এক আক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে অনুমান করতে বাধ্য করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ যখন তীব্রতর হচ্ছে, তখন সকলের দৃষ্টি বুধবারের দিকে। ট্রাম্প বলেছেন, বুধবার হবে ‘মুক্তি দিবস’ যা এমন একটি মুহূর্ত যখন তিনি এমন কিছু শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশী পণ্য থেকে মুক্ত করার তার প্রতিশ্রুতি পুরন করবে।
ওয়াল স্ট্রিটের বাজার বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে ট্রাম্প তাঁর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করবেন এবং প্রতিশ্রুতি দেবেন যে তারা আমেরিকাকে অন্যায্য বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করবেন এবং মার্কিন শিল্পের একটি নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ তৈরি করবেন।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টার্গেট করা দেশগুলোকে আঘাত করার জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রিপাবলিকান বিলিয়নেয়ারের শুল্কের প্রতি দীর্ঘদিনের আকর্ষণ বিদ্যমান। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মুখোমুখি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বন্ধু ও শত্রু উভয়ের সাথেই আমেরিকার বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় এটিই একমাত্র হাতিয়ার।
তিনি যুক্তি দিয়েছেন, শুল্ক মার্কিন শিল্পগুলোকে অন্যায্য বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করে। ফেডারেল সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে এবং অন্যান্য দেশ থেকে ছাড় দাবি করার জন্য সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত হারে বিস্তৃত শুল্ক বিপরীতমুখী হতে পারে।
সমালোচকরা বলছেন, আমদানিকারকরা এই খরচ বহন করলে কেবল মার্কিন ভোক্তাদের ওপরই এর প্রভাব পড়বে না, বরং তারা দেশে ও বিদেশে ক্ষতিকর মন্দার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েকদিন আগে থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকা দেশগুলো আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের আমেরিকা এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এবং কেবল বাণিজ্য নয়, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং প্রায় সবকিছুতেই গভীর ব্যবধানকেও তুলে ধরে।
অন্যান্য দেশগুলো যে ধরনের শুল্ক আরোপ করে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শুল্ক আরোপিত হবে বলেই তিনি প্রাথমিকভাবে জানান।
সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মার্কিন মিডিয়া জানিয়েছে, তিনি ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর কথাও বিবেচনা করছেন এবং কিছু দেশের ওপর অগ্রাধিকারমূলক আচরণ করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প ঘোষণার প্রাক্কালে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সাথে একটি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বৈঠক করছেন।
তিনি আরো জানান, বুধবারের ঘোষণার পরে ‘অবিলম্বে’ শুল্ক কার্যকর হবে। অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনার জন্য কোনো প্রকার বিলম্ব করা হবে না।
ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে বেশ কয়েকটি শুল্ক ঘোষণা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থেকেছেন।
তবে তার পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে মূল্য বৃদ্ধি ও ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটানোর এক ক্ষতিকারক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডাসহ প্রধান অর্থনীতিগুলো প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডার পক্ষ থেকে লড়াইয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মঙ্গলবার বলেছে, তারা এখনও একটি সমাধান নিয়ে আলোচনা করার আশা করছে তবে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ ও তাদের কাছে রয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সাথে যুক্তরাজ্য-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির জন্য ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ নিয়ে কথা বলেছেন। ভিয়েতনাম মঙ্গলবার বলেছে, তারা ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে।
মার্চ মাসে চীন সকল পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে বেইজিং প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ শুরু করে। ইইউ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ উন্মোচন করেছে।
চীনের সামরিক বাহিনী বুধবার জানিয়েছে, তারা তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে অনুশীলনের অংশ হিসেবে ’লাইভ-ফায়ার’ মহড়া পরিচালনা করেছে। চীন আরো জানিয়েছে, তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
বেইজিং থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
সামরিক মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল শি ই বলেন, পূর্ব চীন সাগরে ’দূরপাল্লার লাইভ-ফায়ার মহড়া’ পরিচালিত হয়েছে। এই মহড়ায় গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং জ্বালানি সুবিধার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৭ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে। এসব খাদ্য ইতোমধ্যে চট্রগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
আমেরিকান কৃষকদের উৎপাদিত এই খাদ্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে দশ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গাকে জরুরি সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে সরবরাহ করা হবে।
আজ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ধারাবাহিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের কাছে পর্যাপ্ত সাহায্য পৌঁছানো নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দাতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বোঝা ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সংস্থান সরবরাহ করতে উৎসাহিত করেছে।
চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস- মিনিবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত হলেন, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মো. পারভেজের ছেলে মো. জাহেদ, একই এলাকার আলমের ছেলে রিফাত (২৯), পদুয়া ইউনিয়নের চরপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে নাজিম, সুখছড়ি মৌলভীপাড়ার আমির হোসেনের ছেলে জিয়ান হোসেন অপু ও সাতকানিয়া উপজেলার ডেলিপাড়ার ছাত্তারের ছেলে ছিদ্দিক।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘সকালে মহাসড়কে বাস-মিনিবাস সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।’
লিবিয়ার মিসরাতা শহরে ২৩ অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস এমন তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, লিবিয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৩ জন অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মিসরাতার আল-গিরান থানায় বেশ কয়েকজন বিদেশিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি এই তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রের অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ সফল অভিযান পরিচালনা করে জিম্মিদের মুক্ত করে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আল-গিরান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস মিসরাতার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার মিয়ানমার এক মিনিট নীরবতা পালন করবে। ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্যাংকক পর্যন্ত রাস্তাঘাট ধসে পড়েছে এবং বাড়িঘর, ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
মিয়ানমারের মান্দালয় থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
গত শুক্রবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিন পরও মিয়ানমারের অনেক মানুষ এখনো বাড়ির বাইরে ঘুমাচ্ছে। আরো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় এবং ভয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে মানুষ ফিরতে সাহস পাচ্ছে না।
গত শুক্রবার দেশটিতে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ঠিক একই সময়ে ভূমিকম্পে নিহত মানুষের স্মরণে নীরবতা পালন করা হবে।
ক্ষমতাসীন জান্তা জনগণকে সেই সময় মন্দির এবং প্যাগোডায় প্রার্থনার আহবান জানিয়েছেন। এই সময় নীরবতা পালন করতে মিডিয়ার সম্প্রচার বন্ধ রাখতে এবং শোকের প্রতীক প্রদর্শন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই নীরবতা পালন পদক্ষেপটি জান্তা কর্তৃক ঘোষিত এক সপ্তাহের জাতীয় শোকের অংশ। যেখানে ’প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রতি সহানুভূতি জানানোর জন্য’ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ভবনগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
জান্তা সরকার সোমবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩ হাজার ৯শ’ জনেরও বেশি মানুষ আহত এবং ২৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পে প্রতিবেশি থাইল্যান্ডে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ভূমিকম্পের ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শহর ও গ্রামে উদ্ধারকারী দল পৌঁছালে মৃতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মিয়ানমারের দ্বিতীয় শহর এবং ১৭ লাখেরও বেশি মানুষের আবাসস্থল মান্দালয় ভূমিকম্পের ফলে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। অনেক আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে শত শত বাসিন্দা চতুর্থ রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা তারা ভীত ছিলেন যে আফটারশক আরো ক্ষতি করবে এই আশঙ্কায়।
ঘড়ি নির্মাতা সো টিন্ট এএফপি’কে বলেন, ’আমি নিরাপদ বোধ করছি না। আমার বাড়ির পাশে ছয় বা সাত তলা ভবন হেলে আছে। সেগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা বন্ধে ইসরাইলকে চাপ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইয়ার্ডেন বিবাস নামে হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া এক ইসরাইলি জিম্মি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানান তিনি।
জেরুজালেম থেকে এএফপি এই খবর জানায়।
ইয়ার্ডেন বিবাসের স্ত্রী সিরি বিবাস ও আরো দুই সন্তান গাজায় হামাসের হাতে বন্দি ছিলেন। তবে বন্দি অবস্থায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গত মাসে ইয়ার্ডেন বিবাসকে মুক্তি দেয়া হয়।
মুক্তির পর প্রথমবারের মতো এক সাক্ষাৎকারে ইয়ার্ডেন বিবাস বলেছেন, চলতি মাসে ইসরাইল নতুন করে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে এর ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আটক থাকা কয়েক ডজন জিম্মিকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
গত রোববার প্রচারিত সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’-এর সাথে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, দয়া করে এই যুদ্ধ বন্ধ করুন এবং সমস্ত জিম্মিকে ইসরাইলে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করুন।
তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি জানি তিনি সাহায্য করতে পারেন। আমি আজ এখানে একমাত্র ট্রাম্পের কারণেই। আমি মনে করি, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি আবার এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন’।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনী হামলা শুরু হয়। টানা ১৫ মাস পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী হয়নি। চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ থেকে বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।
এমনকি ঈদুল ফিতরের উৎসবের মধ্যেও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত ছিল। গত দুই দিনে গাজায় ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৫ জন।
ফলে দীর্ঘ হচ্ছে হতাহতের তালিকা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ হাজার ৩৫৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১৪ হাজার ৪শ’ জন আহত হয়েছেন।