বেশ কয়েকমাস আগে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রযোজক রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খান। এ মামলায় রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। যার ফলে শুরু হয়েছে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার।
বুধবার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাকিব খানের আইনজীবী খায়রুল হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আজ থেকে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বিচারক সাক্ষগ্রহণের দিনও ধার্য করেছেন।
এদিকে অভিযোগ গঠনের সময় রহমত উল্লাহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তবে শাকিবের আইনজীবী খায়রুল হাসান আদালতের অনুমতি ছাড়া রহমত উল্লাহর বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে ১৮ মার্চ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করতে গুলশান থানায় যান শাকিব। কিন্তু তার অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ থাকায় মামলা নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। সেইসঙ্গে আদালতে গিয়ে মামলা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয় তাকে। এরপর ২৩ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরফাতুল রাকিবের আদালতে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন শাকিব। তিনি অভিযোগ করেন, রহমত উল্লাহ তার কাছে এক লাখ মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করেছেন।
এ সময় আদালত শাকিবের জবানবন্দী গ্রহণের করে রহমত উল্লাহকে আগামী ২৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর ২৭ মার্চ টেলিভিশনে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দেয়ায় অভিযোগে প্রযোজক রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে চিত্রনায়ক শাকিব খান আরও একটি মামলা করেন।
তার আগে রহমত উল্লাহ বাংলাদেশে এসে শাকিব খানের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন। এই নিয়ে বিরোধে তারা দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি কয়েকটি মামলা করেন। তার মধ্যে শাকিব খানের একটি মামলা বিচারের পর্যায়ে গেল।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রযোজক রহমত উল্লাহ নির্মিতব্য 'অপারেশন অগ্নিপথ' সিনেমাটির প্রযোজক। এ ছবিতে কেন্দ্রিয় চরিত্রে ছিলেন শাকিব। এ ছবি ঘিরেই শাকিব-রহমত উল্লাহর দ্বন্দ্ব।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে 'অপারেশন অগ্নিপথ' ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। এতে শাকিবের বিপরীতে ছিলেন শিবা আলী খান। ৬০ শতাংশ দৃশ্যধারণ সম্পন্ন এ সিনেমায় খল চরিত্রে ছিলেন মিশা সদাগর। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আশিকুর রহমান।
গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি, সাংবাদিকদের গালিগালাজের দরুণ আবার চর্চার শীর্ষে চিত্রনায়িকা পরীমনি। এই ঘটনায় পরীমনিকে নিয়ে যখন নিন্দার ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। ফেসবুকে গৃহকর্মীদের প্রসঙ্গে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন ন্যান্সি। নিজেও বেশ কয়েকজন গৃহকর্মীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পরীমনিকে নিয়ে সংবেদনশীল হওয়ার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বানও জানান এ কণ্ঠশিল্পী। ন্যান্সি লিখেছেন, ‘গৃহকর্মী নির্যাতিত হয় যেমন সত্যি ঠিক তেমনি কিছু গৃহকর্মীর দ্বারা গৃহকর্ত্রীও কম সমস্যার মুখোমুখি হন না! আমার পুরো বাসায় সিসি ক্যামেরা আছে শুধু গৃহকর্মীর মিথ্যা হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য!’
নিজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে কণ্ঠশিল্পী লিখেছেন, ‘বছর দশেক আগে আমার বাসার গৃহকর্মী বাসার দারোয়ানের সঙ্গে পালিয়ে যায়। গৃহকর্মীর পরিবার তাদের মেয়ে গুম হয়েছে অভিযোগ তুলে মোটা টাকা দাবি করে। আমি সরাসরি পুলিশের শরণাপন্ন হই এবং তাদের আন্তরিক সহযোগিতায় ঘণ্টা দুয়েকের মাথায় পলাতক গৃহকর্মী তার প্রেমিকসহ উদ্ধার হয়। পরে জানতে পারি, আমাকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা পূর্ব পরিকল্পিত! এ ঘটনার পরই আমার বাসায় কথা রেকর্ড হয় এমন সিসি ক্যামেরা সেটাপ করি।’
আরেকটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ন্যান্সি লেখেন, ‘দুই বছর আগে আমার ছোট্ট মেয়েটাকে দেখাশোনার জন্য এজেন্সি থেকে যে মেয়েটাকে এনেছিলাম সে তার বোনের সঙ্গে মিলে আমার বিয়ের গয়না এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এর স্বর্ণপদক চুরি করে। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর উল্টো গৃহকর্মী আমার নামে নির্যাতনের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করে। আমি সিসি ক্যামেরার বদৌলতে হয়রানির হাত থেকে বেঁচে যাই।’
ন্যান্সি আরও লেখেন, ‘বাসার রান্নার লোক যে কত জ্বালিয়েছে তার হিসাব নেই। বেতনের বাইরে যতই দেই না কেন তাদের খুশি করা যায় না। মন চাইলে কাজে আসে, অন্যথায় আসে না। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পুরো বাসার সিংহ ভাগ ফার্নিচার বদলাই। আগের সব আসবাবপত্র আমার বাসার রান্নার মহিলা ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যায়, আমিও ভাবলাম এবার হয়তো সে আর কাজে ফাঁকি দেবে না। এত বড় উপকারের ফলাফল হিসেবে কি পেলাম জানেন? তার চাহিদা এখন আর হাজারের ঘরে রইল না, লাখের ঘরে চলে গেল! বিগত জুলাই মাসে বিরক্ত হয়ে তাকে বিদায় করলাম। আমার বাসার সব রান্না দশ মাস যাবৎ আমিই করি। আমার ঘরে এখন বাজার খরচ কমে গেছে, বাসি খাবার খাই না বললেই চলে। স্বামী সন্তান ভাইও খুশি, তাদের রান্না করে খাইয়ে আমিও অনেক তৃপ্তি পাই।’
সবশেষে সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সংবাদ মাধ্যম একটু সংবেদনশীল হোন। সব কিছুতে বাণিজ্য দেখবেন না। নির্যাতিতার পরিচয় গৃহকর্মীও হতে পারে আবার গৃহকর্ত্রীও হতে পারে। সত্যিকারের ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ান। পরীমনির মতো এমন আরও তারকাদের ঘাড়ে ভর করে আর কত শিরোনাম বেচবেন বলুন! আপনাদেরও নিশ্চই কিছু দায় আছে, তাই না?’
ন্যান্সির মতোই পরীর পাশে দাঁড়িয়েছেন নির্বাসিতা লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিনেত্রীর সেই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘পরীমনির সুসময়ে আমি পাশে থাকি না। ওঁর দুঃসময়ে আমি ছুটে আসি । আবার ওঁর আঙিনায় দুঃসময় এসে দাঁড়িয়েছে। এক মহিলা গৃহপরিচারিকার চাকরি নিয়ে ওঁর বাড়িতে ঢুকেছিল। কিছুদিন পর সে বেরিয়ে এসে পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে, আর মিডিয়াও বেশ ফলাও করে মহিলার সাক্ষাৎকার ছাপাচ্ছে, যেন মহিলা যা বলছে সবই সত্যি। মিডিয়ার চরিত্র আমরা জানি।’ মিডিয়ার প্রতি আঙুল তুলে তসলিমা নাসরীন লেখেন, ‘নারী, বিশেষ করে সে নারী যদি ব্যতিক্রমী, সাহসী, প্রতিভাময়ী হয়, তাহলে তার সর্বনাশ না করে ছাড়বে না মিডিয়া। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো, রক্ষণশীলতা আঁকড়ে রাখা, ক্ষমতার চাটুকারিতা বাংলাদেশের মিডিয়ার বিশেষ দোষ।
অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে ভারতের বর্ষীয়ান ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর বর্ণময় ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিগতজীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে বায়োপিক। বিগত দুই-তিন বছর ধরেই দর্শকদের কৌতূহল, কবে দেখা যাবে সিনেপর্দায় সৌরভ গাঙ্গুলীর এই সিনেমাটি। উৎকণ্ঠারও যেন অন্ত নেই। তবে এরই মধ্যে ঘোষণা এসেছে, ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’র চরিত্রে দেখা যাবে রাজকুমার রাওকে। কিন্তু এরপর সৌরভের স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা নিয়ে শুরু হয় কৌতূহল, আলোচনা। এর আগে সৌরভকন্যা সানা অবশ্য বলিউডের এই সময়ের জাতীয় ক্রাশ উপাথিতৃপ্তি দিমরিকে ‘পর্দার মা’ হিসেবে পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু মহারাজের বায়োপিকে নায়িকা নির্বাচনে এবার টুইস্ট!
সম্প্রতি কলকাতায় এসেছিলেন এই সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। তিনি টালিউডের একটি সিনেমার সেটে হাজির হন। সেখান থেকেই জল্পনার সূত্রপাত, টলিপাড়ার তারকাদের সঙ্গে নাকি কাজ করতে চাইছেন মুকেশ। শোনা যাচ্ছে, সৌরভের বায়োপিকে নায়িকা হিসেবে নাকি প্রাথমিক পর্যায়ে মিমি চক্রবর্তী এবং ইশা সাহার নাম উঠে এসেছে।
ডোনা গাঙ্গুলীর ভূমিকায় বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে মুম্বাইয়ের কাস্টিং ডিরেক্টর নাকি ভরসা রাখছেন বাঙালি অভিনেত্রীর ওপরই। যদিও চূড়ান্তভাবে এখনো কিছু ঠিক হয়নি, তবে গুঞ্জনে সিলমোহর পড়ে কি না, নজর সেদিকেই সবার। সিনেমাটি নির্মাণ করবেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে।
সৌরভপত্নীর চেহারায় আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানার ছাপ। যার সঙ্গে তৃপ্তি দিমরির কোনো মিল নেই। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভবত নায়িকার খোঁজে টলিপাড়ায় পদার্পণ মুকেশ ছাবড়ার। এদিকে মিমি এবং ইশা, দুজনই বেশ দক্ষ অভিনেত্রী। তাই, মহারাজের বায়োপিকে যদি তাদের কোনো একজন নির্বাচিত হন ডোনার চরিত্রে, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতেই হবে।
আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্কের সঙ্গে যেন একই সুতোয় বাঁধা চিত্রনায়িকা পরীমনি। বছরজুড়ে চর্চিত এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার। তিনি জানান, পরীমনির এক বছরের কন্যাশিশুকে খাবার খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর ভাটারা থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন পিংকি আক্তার। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ছি ছি’ পড়ে যায়। সবাই পরীমনিকে একপ্রকার ধুয়ে দেন। এমনকি দেশের গণমাধ্যমেও এ নিয়ে খবরের শিরোনাম হন এই নায়িকা।
তবে বিতর্কিত এ ঘটনাটি নিয়ে রাতেই ফেসবুকে লাইভে আসেন পরীমনি। তিনি জানান, তার হাতে সব প্রমাণ আছে। কিন্তু তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আনতে চাইছেন না। সেই সঙ্গে মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি। ফেসবুক লাইভের একদম শুরুতেই পরীমনি বলেন, ‘আপনারা আমার বিগত জীবনযাপন দেখলেই বুঝবেন, কোনো আত্মীয়স্বজন নিয়ে আমার জীবনযাপন না। বরং আমার পুরো পরিবারটাই হলো আমার স্টাফদের নিয়ে। বিশেষ দিবসে তাদের নিয়ে লেখালেখি করতাম। মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে যাই বলেন না কেন, আমি তাদের নিয়েই থাকি। সেখানে একজন আমার গৃহকর্মী, যে এক মাসও হয়নি আসার, সে দাবি করতেই পারে (গৃহকর্মী হিসেবে), তবে আমি বলব সে আমার গৃহকর্মী না।’
এমনকি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে, কিন্তু দিতে চাচ্ছি না কেন জানেন, কারণ আমি আইনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে তাকে নিয়ে দেশের গণমাধ্যমে আসা খবরে বিরক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পরী অভিযোগ করেছেন, তিনি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছেন। এই নায়িকা বলেন, ‘আমরা কি একটু ওয়েট করতে পারতাম না? যারা মিডিয়াকর্মী ছিলাম। তারা আমাকে যেভাবে টর্চারটা করল, যেভাবে ফলাও করে ওই নিউজটা করা হলো, যেভাবে তার ইন্টারভিউ করা হলো, তার মানে কি আমরা মিডিয়াকর্মী হয়ে তাকে প্রিভিলেজ (বেশি সুবিধা) দিচ্ছি না? যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে জিডি করলেই সঙ্গে সঙ্গে এটা জাস্টিফাই হয়ে যাবে? এতে আমি ছোট হয়েছি বা বড় হয়েছি তা না, আমি যদি অন্যায় করি ডেফিনেটলি আমার শাস্তি পাওয়া উচিত। যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে, কিন্তু সেটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই আপনি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দেবেন?’
এমনকি দেশের একটি প্রথম সারির গণমাধ্যমের নিউজ লাইভে দেখিয়ে পরী বলে, ‘একতরফা করবেন না, করলে সবদিক থেকেই করবেন। প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করেন, আমার বাসার নিচে আসতে হবে না। আমি নিজেই আপনাদের কাছে যাব। আমি আপনাদের কয়বার নক দিয়েছি, ওই মেয়ে যে আপনাদের নক দিয়েছে? আপনাদের নাম্বার ও কীভাবে পেল? নাকি আপনাদেরই গরজ। নাকি হাতে ‘এস’ লেখার বিষয়ে আপনাদের বলদ-ফলদ বলেছিলাম বলে আপনাদের গায়ে লাগল? তো বলদের প্রমাণ দিয়ে দিচ্ছেন?’
এরপর বেশ খানিকটা উত্তেজিত হয়ে পরী বলেন, ‘আপনারা আইন, সংসার, জীবন- সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে চান। হিসাব কিন্তু এক দিন আপনাদের দিতেই হবে। মিলিয়ে নিয়েন।’
বিয়ের পর অনেক দিন ধরেই মার্কিন সিরিজে অভিনয় নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে বলিউডের এক সময়ে অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তবে লম্বা সময়ের বিরতি শেষে নতুন করে ভারতীয় সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি চমক দেখালেন ‘দেশি গার্ল’-খ্যাত এই অভিনেত্রী। তার মধ্যে বড় চমক হচ্ছে প্রথমবার দক্ষিণী সিনেমায় ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিকের দিক থেকে সব অভিনেত্রীদের ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বর্তমানে ‘বাহুবলী’র পরিচালক এসএস রাজামৌলির পরবর্তী ছবিতে কাজ করছেন। এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতা মহেশ বাবুকে। ছবির শুটিংয়ের জন্য প্রিয়াঙ্কাকে আমেরিকা থেকে হায়দরাবাদে যেতেও দেখা গিয়েছিল। ছবিতে অসাধারণ অ্যাকশন এবং অসাধারণ গল্প দেখা যাবে বলে জানান প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
তবে এর মধ্যেই আরেকটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে বলিউড এবং দক্ষিণী সিনেমাপাড়ায়। শোনা যাচ্ছে খ্যাতিমান নির্মাতা অ্যাটলির নতুন ছবিতে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেতা আল্লু অর্জুনের বিপরীতে কাজ করতে যাচ্ছেন সাবেক এই মিস ইউনিভার্স। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে জানা গেছে, অ্যাটলি এখন তার নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। ‘A6’ নামের এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে আল্লু চূড়ান্ত হয়েছেন অনেক আগেই। জোর গুঞ্জন এই ছবিতে নাকি প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকেও দেখা যেতে পারে গুরত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকায়। শোনা যাচ্ছে বেশ বড় পরিসরেই তৈরি হচ্ছে সিনেমাটি। ছবিটি নাকি অসাধারণ অ্যাকশনে ভরপুর হতে চলেছে, আর তা একদমই অ্যাটলি স্টাইলে।
পুষ্পার পর আল্লু অর্জুনও তার পুরো সময় এই ছবিতে ব্যয় করেছেন। ছবির শুটিং শুরু হওয়ার আগে অ্যাটলি তার চরিত্রটি নিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে আলোচনাও করছেন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, তাহলে এই ছবিতে প্রিয়াঙ্কাকে আল্লু অর্জুনের নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে। খবর চাউর হয়েছে অ্যাটলির এই ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে পারেন। আল্লু অর্জুন এবং প্রিয়াঙ্কাকে একসঙ্গে দেখে ভক্তরা যে বেশ আনন্দ পাবেন তা বলাই বাহুল্য। ছবির বাজেটও বেশ বড়। আরও জানা গেছে, শাহরুখ খানের ‘জাওয়ান’ -এর মতো এই ছবিতেও নাকি আল্লু অর্জুনকে দ্বৈত ভূমিকায় দেখা যাবে। সঙ্গে দারুণ অ্যাকশন ঠাসা হবে এই ছবি। ছবিটি আল্লু অর্জুনের জন্মদিনে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অ্যাটলি।
খুব সহজ-সরল কৃষ্ণা নামের সুন্দরী, সুহাসিনী মেয়েটি যখন তার পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের পাবনা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গিয়ে স্থায়ী হয়েছিলেন, তখন কি কারও পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব ছিল এই মেয়েটি এক বিরল ইতিহাস রচনা করে দেখাবেন? অথচ ইতিহাস সৃষ্টি করে সেই সময়ে একজন সাধারণ নারী রমা দাসগুপ্ত থেকে সুচিত্রা সেন হতে পেরেছিলেন। আকর্ষণীয় সৌন্দর্য কাহিনীর সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়ার অসাধারণ নৈপুণ্য তাকে খ্যাতির শিখরে নিয়েছিল। তার রূপ, চালচলন, পোশাক ও সাজসজ্জা বাঙালি নারীর ফ্যাশনেই পরিণত হয়নি, তিনিও হয়ে উঠেছিলেন শাশ্বত বাঙালি নারীর প্রতীকী রূপ। ১৯৩১ সালের এই দিনে (৬ এপ্রিল) সুচিত্রা সেনের জন্ম হয় পাবনা, নানাবাড়িতে। পাবনা শহরের দিলালপুরে কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। ছিলেন পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ছবি তুলতে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। সেই ছবির পর দুই দশক বহির্বিশ্বকে আর কোনো ছবি দেখতে দেননি তিনি। ’৭৮ সালে চলচ্চিত্রকে বিদায় জানানোর ৩৪ বছর পরেও এমনকি তার মৃত্যুর পরও তার প্রতি তুমুল আকর্ষণ, আবেগ ও কৌতূহলে ভাসিয়েছে পঞ্চাশোর্ধ্ব বাঙালিদেরও। সুচিত্রা সেন জেনেছিলেন কোথায় থামতে হয়। তাই তিনি নায়িকা হিসেবে পর্দায় দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে- এই চরম সত্যটি উপলব্ধি করেই সচেতনভাবে বাইরের দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে নির্জনতায় ডুবেছিলেন। এতে তার ভরা যৌবনের পরমা সুন্দরীর ইমেজের প্রেমে নিজেই যে জড়িয়ে পড়েছিলেন, সেটিই সত্য নয়, তার লাখো কোটি ভক্তকেও সেই মায়াজালে আটকে দিয়েছিলেন। তিনি পর্দার বাইরে বাকি জীবন কাটিয়ে দিলে তার সেই চিরচেনা চিরসুন্দর রূপের মূর্তি ভেঙে যেমন খান খান হয়ে যেত, তেমনি এভাবে মিথেও পরিণত হতেন না।
বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশ আর ষাটের দশকে বাংলা রোমান্টিক সিনেমাযুগকে স্বর্ণযুগে পৌঁছে দিয়েছিলেন উত্তম কুমারের সঙ্গে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের চিরসবুজ জুটি। বাংলা ভাষাভাষি সিনেমা দর্শকদের কাছে মহানায়ক উত্তম কুমার ও মহানায়িকা সুচিত্রা সেন যে ইমেজ দাঁড় করিয়ে গেছেন, যে গগনচুম্বী জনপ্রিয়তা রেখে গেছেন, তা আর কেউ যেমন ভাঙতে পারেননি, তেমনি আগামী শত বছরে ভাঙতে পারবেন বলে কেউ বিশ্বাস করেন না। লাখো কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করা এমন চলচ্চিত্র জুটি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, হাজার হাজার রমণী নানা বয়সের মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রেমে পড়েছিলেন। মৃত্যুর পরও উত্তম-সুচিত্রা সম্পর্ক মিথ হয়ে এখনো সিনেমা দর্শকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয় চায়ের টেবিলে।
সুচিত্রা সেনের চলচ্চিত্রে অভিষেক ‘৫২ সালে। তার প্রথম ছবির নামা ছিল ‘শেষ কোথায়’। কিন্তু সেটি মুক্তি পায়নি। তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবির নাম ‘সাত নম্বর কয়েদি’। সেটি তাকে জনপ্রিয়তা দিতে পারেনি। কিন্তু ’৫৪ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তায় উঠে আসেন সুচিত্রা সেন। তার অভিনীত বাংলা ছবির সংখ্যা অর্ধশতাধিক। উত্তম কুমার ছাড়াও সুচিত্রা বিকাশ রায়, বসন্ত চৌধুরী, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং হিন্দিতে দিলীপ কুমার, দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র ও সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেছেন; কিন্তু কালের যাত্রাপথে বাংলা চলচ্চিত্রে সুচিত্রা-উত্তম জুটিই ছিল সবচেয়ে রোমান্টিক ও জনপ্রিয়। একসঙ্গে ৩০ ছবি করা রুপালি পর্দার এই জুটির আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা আর কেউ ভাঙতে পারেননি। সুচিত্রা হয়ে উঠেছিলেন কোটি কোটি তরুণের স্বপ্নের নারী। আর নারীদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
সুচিত্রা অভিনীত ছবির মধ্যে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সবার উপরে’, ‘শাপমোচন’, ‘শিল্পী’, ‘পথে হলো দেরি’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’ ও ‘সাগরিকা’ অন্যতম। এসব ছবি দেখে দর্শকদের হৃদয় মনজুড়ে প্রেমের আগুনই জ্বলে ওঠেনি, সৌন্দর্যের পিপাসাও তীব্র হয়ে উঠেছিল। ‘সাগরিকা’ ছবিতে জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে উত্তমের সিগারেট টানার দৃশ্য আপনা-আপনি ধূমপায়ী পুরুষরা অনুসরণ করেছিলেন। আর সুচিত্রা সেনের ‘দ্বীপ জ্বেলে যায়’ ছবি দেখতে দেখতে আপন মনে কাঁদেননি, এমন নারীদর্শক কমই ছিলেন।
এক সময় অভিনয় ছেড়ে পর্দা ও লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান সুচিত্রা সেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি পর্দার অন্তরালে বাস করেন কন্যা মুনমুন সেন, নাতনি রাইমা ও রিয়া এবং নিকটাত্মীয় ছাড়া তার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের নিজস্ব ফ্ল্যাটে আর কেউ দেখা করতে পারেননি। ২০১৪ সালে ১৭ জানুয়ারি তিনি অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে যান। কিন্তু একজন সত্যিকারের তারকাদের কখনো মৃত্যু হয় না। মহানায়িকা তথা নায়িকাদের নায়িকা হয়েই বেঁচে থাকবেন সুচিত্রা সেন।
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এক বছরের সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহকর্মী পিংকি আক্তারকে মারধরের অভিযোগ উঠে নায়িকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পরীমণি। ২১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের লাইভে তিনি অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলার কথা বলেন এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
লাইভের শুরুতেই নিজের স্টাফদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরীমণি বলেন, আমার জীবনজুড়ে যারা আছে, তারা সবাই আমার স্টাফ। ফ্যামিলির মতো করে ওদের নিয়েই সব বিশেষ দিন কাটে। এই যে মেয়ে, যাকে ঘিরে এখন এত কিছু বলা হচ্ছে, সে গৃহকর্মী দাবি করতেই পারে, কিন্তু আমার কাছে সে গৃহকর্মী নয়।
পরীমণি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা হয়নি, এবং তাকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। অভিনেত্রী বলেন, আমি এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একদম প্রস্তত ছিলাম না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কড়া গলায় বললেন, এত মিডিয়া ট্রায়াল (একপাক্ষিক সংবাদ) বন্ধ করে দেন। এরপর খানিকটা মুচকি হেসে হুমকির সুরে বলেন, জনগণ কিন্তু আস্ত একটি মিডিয়া, যদি সে সঠিক হয়, সত্যি হয়। এসব স্ট্যাম্পমারা মিডিয়ার দরকার হয় না। এগুলো করবেন না, এগুলো সুন্দর দেখায় না। আপনারা হবেন সাপোর্টিভ, এগুলো কি করেন আপনারা।
তিনি আরও বলেন, আমরা মিডিয়াকর্মী হয়ে যদি কাউকে বাড়তি সুবিধা দিই, সেটা ঠিক না। কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে, সেটা যাচাই না করেই যদি আমরা দোষী বানিয়ে ফেলি, সেটা কি ন্যায্য? আমি যদি দোষ করি, অবশ্যই শাস্তি পাব। কিন্তু আগে প্রমাণ তো হোক।
পরীমণি বলেন, একতরফা করবেন না, করলে সবদিক থেকেই করবেন। প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করেন, আমার বাসার নিচে আসতে হবে না। আমি নিজেই আপনাদের কাছে যাব। আমি আপনাদের কয়বার নক দিয়েছি, ওই মেয়ে যে আপনাদের নক দিয়েছে? আপনাদের নাম্বার ও কীভাবে পেল? নাকি আপনাদেরই গরজ। নাকি হাতে এস লেখা বলে আপনাদের বলদ ফলদ বলেছিলাম বলে আপনাদের গায়ে লাগল? তো বলদের প্রমাণ দিয়ে দিচ্ছেন?
উল্লেখ্য, এরপর বেশ খানিকটা উত্তেজিত হয়ে পরীমণি বলেন, আপনারা আইন, সংসার, জীবন-সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে চান। হুমকির সুরে পরীমণি আবার বললেন, 'হিসাব কিন্তু একদিন আপনাদের দিতেই হবে। মিলিয়ে নিয়েন।
তিনি আরও বলেন, আমার হাতে সমস্ত প্রমাণ আছে, কিন্তু আমি এখনই কিছু দিতে চাই না, কারণ আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। লাইভে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। লাইভের শেষাংশে তিনি বলেন, এই যে মিডিয়া ট্রায়াল, দয়া করে এটা বন্ধ করুন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। সময় কাটাচ্ছেন বন্ধু-বান্ধবী আর প্রিয়জনদের সঙ্গে। নানা মুহূর্তই তিনি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সম্প্রতি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন এই নায়িকা।
যেখানে মাহিয়া মাহি লিখেছেন, ‘খুব সুন্দর একটা সংসার গোছাবো ঠিকাছে...!’
তিনি লিখেন, ‘কখনো লবণ কম, কখনো বেশি, কখনো ভাত গলে গিয়ে জাউ হতে হতে একদিন খুব মজার রান্না করতে শিখে যাব তোমার জন্য।’
এর পর মাহি লিখেছেন, ‘কফি খেতে খেতে কিংবা গাড়িতে কোনো লং জার্নিতে আমরা অন্য সব বোরিং কাপলগুলোর মতো ফেসবুক স্ক্রলিং করবো না, বরং আমরা তুমুল গল্প করবো, হাসবো, হাসাবো। খুব সুন্দর একটা সংসার গুছাবো আমরা।’
সবশেষে তিনি লেখেন, ‘সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের মতো ভালোবাসা না থাকুক, প্রচণ্ড মায়া যেন থাকে সেখানে।
যে মায়াতে আমার ভেজা চোখ তোমার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দিবে...। যে মায়া আমাদের মৃত্যু অব্দি একসঙ্গে রাখবে।’
এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ মে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে বিয়ে করেছিলেন মাহিয়া মাহি। চার বছরের মাথায় ২০২০ সালে বিবাহবার্ষিকীর কয়েক দিন আগে অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা জানান তিনি।
এরপর ২০২১ সালে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সরকার রকিবকে বিয়ে করেন মাহি। সেই সংসারও টেকেনি। গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎই এক ভিডিও বার্তায় রকিবের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর জানান মাহি।
আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে এক বছরের মেয়েসন্তানকে খাবার খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্মী পিংকি আক্তার গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে বাসার গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও মারধরের বিষয়ে একটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে পিংকি আক্তার জানান, এক মাস আগে আমি কাদের নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে চিত্রনায়িকা পরীমনির বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় কাজ পাই। আমার দায়িত্ব ছিল পরীমনির এক বছর বয়সি মেয়ের দেখাশোনা করা এবং তাকে খাবার খাওয়ানো। তার বাচ্চাকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর খাওয়ানো হয়। তবে আমাকে বাচ্চার দেখাশোনার জন্য নিয়ে আসা হলেও, আমাকে বাসার অন্যান্য কাজও করতে হয়।
গত বুধবার আমি শিশুটিকে বসিয়ে বাজারের লিস্ট করছিলাম, তখন শিশুটি কান্না শুরু করে। এ সময় সৌরভ নামে এক ব্যক্তি, যিনি মাঝেমধ্যে পরীমনির বাসায় আসেন, বলেন শিশুকে সলিড খাবার দিতে। আমি জানাই, সে কিছুক্ষণ আগেই সলিড খাবার খেয়েছে, এখনো দুই ঘণ্টা হয়নি। সময় না হলে সলিড খাবার দেওয়া ঠিক নয়। আমি একটু কাজ করি, তারপর দুধ খাওয়াই।
আমি এখানে এসে জেনেছি, আমার আগে যে গৃহকর্মী ছিলেন, তিনিও বাচ্চাটা কান্না করলে মাঝেমধ্যে দুধ দিতেন। এই কথা বলে আমি বাচ্চাটার জন্য দুধ রেডি করছিলাম। এরই মধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমনি মেকআপ রুম থেকে বের হয়ে আমাকে তুই-তোকারি করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন, আমি কেন বাচ্চার জন্য দুধ নিয়েছি। আমি তখন তাকে বললাম, যেহেতু সলিড খাবার দেওয়ার সময় এখনো হয়নি, তাই আমি দুধ নিয়েছি।
পিংকি জানান, এ সময় পরীমনি মেকআপ রুম থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলেন– বাচ্চা কি তোর না আমার? এরপর তিনি আমাকে ক্রমাগত থাপ্পড় দিতে থাকেন এবং মাথায় জোরে জোরে আঘাত করতে থাকেন।
তিনি যখন আমাকে থাপ্পড় দিতে শুরু করেন, তখন আমি হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, তিনি হয়তো দুই-একটি থাপ্পড় দিয়ে থেমে যাবেন। কিন্তু তিনি থামলেন না, উল্টো আমার মাথায় আরও জোরে আঘাত করতে থাকলেন। তার মারধরে আমি তিনবার ফ্লোরে পড়ে যাই। এরপর তিনি আমার বাম চোখে অনেক জোরে একটি থাপ্পড় মারেন। এই থাপ্পড়ের কারণে আমি এখনো বাম চোখে কিছু দেখতে পাই না।
ভয়ংকর এই মারধরের পর আমি জোরে জোরে কান্না করতে থাকি এবং তাকে বলি, আমি আর পারছি না, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, তুই এখান থেকে কোথাও যেতে পারবি না। তোকে এখানেই মারব এবং এখানেই চিকিৎসা করব। এই কথা বলে তিনি আবারও আমাকে মারতে আসেন। তখন সৌরভ তাকে বাধা দেন। সৌরভ কেন বাধা দিলেন, এই কারণে পরীমনি তাকেও গালাগাল করেন। একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাই।
পিংকি আক্তার জানান, প্রায় এক ঘণ্টা পর আমার জ্ঞান ফেরে। তখন বাসার আরেকজন গৃহকর্মী, বৃষ্টিকে আমি বলি, ‘আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো। তখন বৃষ্টি আমাকে বলেন, পরীমনি ঘুমিয়েছেন, তাকে এখন ডিস্টার্ব করা যাবে না।
তখন আমি লুকিয়ে বাথরুমে গিয়ে কাদের ভাইকে ফোন দিই, তাকে পুরো ঘটনা জানাই এবং সাহায্য চাই-সে যেন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেও আমাকে বলেন, পরীমনি এখন যদি ঘুমিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ডিস্টার্ব করা যাবে না। আর কোনো উপায় না দেখে আমি বাধ্য হয়ে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করি এবং পুলিশকে জানাই, তারা যেন আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এরই মধ্যে আমি আমার এক কাজিনকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাই। তিনি ঘটনা জানতে পেরে পরীমনির বাসার সামনে আসেন। একই সময় পুলিশও আসে পরীমনির বাসার সামনে। এ ঘটনা জানার পর পরীমনি বাসার আরেক গৃহকর্মী বৃষ্টিকে বলেন, আমাকে বাসার নিচে নামিয়ে দিতে। পরে বৃষ্টি আমাকে বাসার নিচে নামিয়ে দেন।
আমি তখন রিকশা নিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। তার মারধরের কারণে আমি এখনো অসুস্থ। আমি প্রাথমিকভাবে থানায় একটি জিডি করেছি, পরবর্তীতে আমি আরও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব তার বিরুদ্ধে।
বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে সৃজিত মুখার্জির নতুন ছবি কিলবিল সোসাইটি। সেখানেই প্রথমবার জুটি হিসেবে দেখা মিলবে কৌশানি মুখার্জি এবং পরমব্রত চ্যাটার্জিকে। এই ছবিতে তাদের একটি চুম্বন দৃশ্যও থাকবে। আর সেই চুম্বন দৃশ্য নিয়ে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে অভিনেত্রীকে।
যদিও পরে ঠিকঠাক শট দিতে পেরেছেন তিনি। সেই সঙ্গে পর্দার সহ-অভিনেতা পরমব্রতকে ইমরান হাশমির সঙ্গে তুলনাও করেন কৌশানি।
ভারতীয় বাংলা সিনেমার গুণী পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ২০১২ সালের সিনেমা ‘হেমলক সোসাইটি’র আদলে সৃজিত এবার নির্মাণ করছেন ‘কিলবিল সোসাইটি’। পূর্বের মতো সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন পরমব্রত চ্যাটার্জি।
তবে কোয়েল মল্লিকের পরিবর্তে নেওয়া হয়েছে কৌশানি মুখার্জিকে। ‘কিলবিল সোসাইটি’ সিনেমায় পরমব্রত-কৌশানির চুম্বন দৃশ্য রয়েছে। প্রথমবার সিনেমায় চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করলেন কৌশানি।
‘কিলবিল সোসাইটি’ সিনেমায় চুমুর দৃশ্য প্রসঙ্গে কৌশানি মুখার্জি বলেন, ‘সৃজিতদা আমাকে প্রথম ফোন করে ডাকেন।
জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোর চুমু খেতে অসুবিধা আছে?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, অসুবিধা তো নিশ্চয়ই আছে।’ তারপর সৃজিতদা জানান, সিনেমায় চুমু খাওয়াটা চিত্রনাট্যের জন্য জরুরি। আমি চিত্রনাট্য শুনলাম, শুনে আর না বলার প্রশ্নই ছিল না। কী অসাধারণ গল্প! সৃজিতদার সঙ্গে আমিও সহমত, কিছু জায়গায় গল্পের খাতিরে ওই দৃশ্যটা প্রয়োজনীয়। আর চুমু খাওয়াটাই তো সব নয়।
বুঝেছিলাম ওই চরিত্রের নিশ্চয়ই অন্য অনেক কিছু করার আছে, তারপর কথাবার্তা এগিয়ে যায়।’
চুম্বন দৃশ্যে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কথা স্মরণ করে কৌশানি মুখার্জি বলেন, ‘এখন এটা অনায়াসে বলতে পারি, আমার অভিনীত সেরা চরিত্র এটি। পর্দায় ঠোঁট ঠাসা চুমু খাওয়া নিয়ে আমার এত বিরোধিতা সেই জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি এই চরিত্রের জন্য। এর আগে কিন্তু বনির সঙ্গেও পর্দায় চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করিনি।’
পরমব্রতকে ইমরান হাশমির সঙ্গে তুলনা করে কৌশানি মুখার্জি বলেন, ‘শটের আগে আমি ভীষণ চাপে ছিলাম। সকাল থেকে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। কারও সঙ্গে কথা বলছিলাম না। আমার বিপরীতে পরমদা, পরমব্রত চ্যাটার্জি। পরমদা তো ইমরান হাশমি, দারুণ চুমু খায়। পর্দায় অনেককে চুমু খেয়েছে। তবে সৃজিতদাকে বলে রেখেছিলাম, এটা যেন এক টেকেই হয়ে যায়। এই দৃশ্যের রিটেক করা যাবে না।’
পরমের সঙ্গে চুমুর দৃশ্যে প্রেমিক বনি সেনগুপ্তের আপত্তি ছিল বলেও জানান কৌশানি। অভিনেত্রী বলেন, ‘সঙ্গী হিসেবে তো যে কারও অসুবিধা হবে। বাড়ি ফেরার পর কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ একটা পরিস্থিতি ছিল। আমি ওর জীবনে আসার আগে পর্দায় বনি চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করেছে। ‘বরবাদ’ সিনেমায় ঋত্বিকার সঙ্গে ঠোঁটঠাসা চুমুর দৃশ্যে অভিনয় করেছে। আমরা সম্পর্কে আসার পর এটা পর্দায় প্রথম চুমু। একটা চ্যালেঞ্জ তো ছিলই, সেটা অতিক্রম করতে হয়েছে। এটা হওয়ারই ছিল।’
‘কিলবিল সোসাইটি’ পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সৃজিত। পরমব্রত-কৌশানি ছাড়াও ‘কিলবিল সোসাইটি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন বিশ্বনাথ বসু, সন্দীপ্তা সেন, সৌমেন চক্রবর্তী প্রমুখ। আগামী ১১ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
বিয়ের পর প্রথম ঈদ বলে কথা। এ কারণে এবারের ঈদটা অন্যরকম হয়ে থাকবে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার তারকা মেহজাবীন চৌধুরীর। যদিও তার ভাষ্য, কেবল অন্যরকমই নয়, ঈদটা হয়ে থাকবে স্মরণীয়। তবে এবারের ঈদে ঠিক কি কি করবেন তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি ছোটপর্দার এই শীর্ষ অভিনেত্রী। শুধু বলেছেন ‘দুই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঈদটা বাসায় করব।’ যদিও এখন তিনি আর ছোটপর্দার তারকা নয়, ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে কোজ করছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমাতেও। যেখানেই তিনি অভিনয় করেন না কেন, সেখানে থেকেই সাফল্য ছিনিয়ে আনেন এই তারকা।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রযোজক-পরিচালক আদনান আল রাজীবকে বিয়ে করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। জাঁকালো বিয়ের আয়োজনে কোনো খামতি ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চর্চায় ছিলেন তারা। বিয়ের পর হানিমুনের প্রশ্নে মেহজাবীন চৌধুরী জানালেন, ব্যস্ততার কারণে আপাতত হানিমুনের কোনো পরিকল্পনা তারা করেননি। তার ভাষ্যে, ‘যদি যাওয়া হয়, সেটা পরে।’ পাশাপাশি এবারের ঈদে তার কাজের কথাও জানালেন তিনি। ঈদে তাকে মাত্র একটি নাটকে দেখা যাবে। নির্মাতা প্রবীর রায় চৌধুরীর ‘বেস্ট ফ্রেন্ড ২.০’ নাটকটি ঈদের দিন সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাচ্ছে। নাটকটি ভালোবাসা দিবসে মুক্তির কথা থাকলেও পিছিয়ে ঈদে প্রচারিত হচ্ছে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক নাটকের জন্য আলাদা পরিচিতি পান মেহজাবীন। ধীরে ধীরে রোমান্টিক চরিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। মাঝখানে তিন বছরের বেশি তাঁকে রোমান্টিক নাটকে দেখা যায়নি। একপর্যায়ে মেহজাবীনের অনুরাগীরা রীতিমতো দাবি তুলেছিলেন, মেহজাবীনকে রোমান্টিক নাটকে চাই। এর মধ্যেই মেহজাবীন চৌধুরী ও ফারহান আহমেদ জোভান জুটিকে নিয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড ২.০-এর ঘোষণা দেন নির্মাতা প্রবীর রায় চৌধুরী। ২০১৮ সালে বেস্ট ফ্রেন্ড নাটকে প্রথমবার প্রবীর রায় চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করেন মেহজাবীন চৌধুরী। নাটকটি আলোচিত হয়েছিল। পরে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড ২’ ও ‘বেস্ট ফ্রেন্ড ৩’ তৈরি করেন নির্মাতা।
‘বেস্ট ফ্রেন্ড ২.০’-এর গল্পে দেখা যাবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ্র (জোভান) ও পুষ্পিতা (মেহজাবীন চৌধুরী) বড় অভিনয়শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নের পিছু ছুটতে গিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়? জানতে নাটকটা দেখতে হবে। আবারও মেহজাবীন ও জোভান জুটিকে নেওয়ার বিষয়ে প্রবীর রায় চৌধুরী গতকাল জানালেন, শুরু থেকেই বেস্ট ফ্রেন্ড-এ জুটি হিসেবে আছেন তাঁরা। তাঁদের বাইরে গল্পটা ভাবতে পারেন না তিনি। পাশাপাশি দর্শকের প্রত্যাশার কথাও জানালেন। প্রবীর রায় বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবারের বেস্ট ফ্রেন্ড–এর আয়োজনটা বড়। গল্পটাও বড়। গল্পে বন্ধুত্বের পাশাপাশি পারিবারিক বোঝাপড়াটাও থাকছে।’
১৫ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে গত বছর ‘প্রিয় মালতী’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে মেহজাবীনের। এতে মালতী রানী দাশ নামের এক লড়াকু নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন। ছবিটি কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আরেক সিনেমা ‘সাবা’ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরছেন তিনি। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ আনন্দের সঙ্গে দর্শকদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসছে হানিফ সংকেতের ইত্যাদি। ঈদ এলেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন তাদের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি দেখার জন্য। এবারের ইত্যাদি ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই গার্ডেন সংলগ্ন একটি দৃষ্টিনন্দন স্থানে। গার্ডেনের লেকের সামনে বিশাল স্থানজুড়ে নির্মিত নান্দনিক সেটে ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। বরাবরের মতো এবারও ইত্যাদি শুরু করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই গানটি দিয়ে। ইত্যাদির ঈদ পর্বে গত তিন দশক ধরেই শত শত মানুষ নিয়ে ঢাকায় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই গানটি পরিবেশিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারে এই গানটি পরিবেশন করবেন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত বর্ণিল পরিবেশনা ও স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শকের অংশগ্রহণে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছিল। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।
এবারের ইত্যাদির চমকানো সব বিষয়ের মধ্যে একটি বিশেষ পর্ব হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান। এবারের ঈদ ইত্যাদির ‘দেশের গানটি’তে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী ও সাবিনা ইয়াসমিন। তাদের সঙ্গে রয়েছে এই প্রজন্মের দশজন জনপ্রিয় শিল্পী ইমরান মাহমুদুল, রাজিব, অয়ন চাকলাদার, রাশেদ, সাব্বির জামান, সিঁথি সাহা, অবন্তী সিঁথি, আতিয়া আনিসা, মালিহা তাবাসসুম খেয়া ও সানিয়া সুলতানা লিজা। ‘ও বাংলাদেশ, স্বাধীন বাংলাদেশ’ শিরোনামে গানটির কথা লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শওকত আলী ইমন।
ঈদের বিশেষ ইত্যাদির বিশেষ চমক হচ্ছে এই প্রথম একসঙ্গে ইত্যাদির একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় দুই সংগীত তারকা হাবিব ওয়াহিদ ও প্রীতম হাসান। গানটির কথা লিখেছেন ইনামুল তাহসিন, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম হাসান। আর একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেতা সিয়াম আহমেদ এবং ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর ও সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল। ইত্যাদির নাচ মানেই বর্ণাঢ্য আয়োজন, প্রতিবারই চেষ্টা করা হয় নাচের মিউজিক, বিষয়, চিত্রায়ণে বৈচিত্র্য আনতে। এবারের ইত্যাদিতেও একটি ভিন্ন আঙ্গিকের নাচের আয়োজন করা হয়েছে। আর এই নাচটিতে অংশগ্রহণ করেছেন এই সময়ের জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী সাফা কবির, সাদিয়া আয়মান, সামিরা খান মাহি ও পারসা ইভানা। তাদের সঙ্গে রয়েছে একদল নৃত্যশিল্পী। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। নাচটির সংগীত পরিচালনা করেছেন আকাশ মাহমুদ।
ইত্যাদির প্রতিটি পর্বই সাজানো হয় নির্দিষ্ট কিছু বার্তা দিয়ে। এবারও আছে বেশ কিছু সমাজ সচেতনতামূলক পর্ব। এর মধ্যে অনলাইনকেন্দ্রিক তিনটি ভিন্ন ঘটনা, সুরে সুরে তুলে ধরেছেন তিন জনপ্রিয় দম্পতি। তারা হলেন, শহীদুজ্জামান সেলিম-রোজী সিদ্দিকী, এফ এস নাঈম-নাদিয়া আহমেদ, ইন্তেখাব দিনার ও বিজরী বরকতউল্লাহ দম্পতি। আর মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত আর একটি মিউজিক্যাল ড্রামায় অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু, মোমেনা চৌধুরী, আনোয়ার শাহী ও র্যাপ শিল্পী মাহমুদুল হাসান। সমকালীন ও বক্তব্যধর্মী এবারের দলীয় সংগীতের বিষয় দেখার চোখ ও বিবেকের চোখ নিয়ে। এই পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তৌসিফ মাহবুব ও আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন ইত্যাদির নিয়মিত নৃত্যশিল্পীদল। গানটির কথা লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।
প্রায় দুই যুগ ধরে ইত্যাদিতে বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশিদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের সংস্কৃতি। নাচ-গান ও গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তুখোড় অভিনয় সমৃদ্ধ এবারের পর্বের বিষয় ‘গুজব’। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন, স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড। ঈদের বিশেষ ইত্যাদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর।
গীতিকার, সুরকার ও গায়ক তরুন মুন্সী তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজে গান গাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্য গান বানিয়ে যাচ্ছেন। তার কথা ও সুর অনেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর কণ্ঠেই দারুণ শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এই সময়ে এসেও গান নিয়ে ব্যস্ততার কমতি নেই তরুনের। অন্যদের জন্য যেমন লিখছেন-সুর করছেন, তেমনি নিজেও গাইছেন নিয়মিত। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের (ডিএমএস) ব্যানারে আসছে তার নতুন গান চিত্র। শিরোনাম ‘নিজেরে বুঝি না’। গানটি কণ্ঠে তোলার পাশাপাশি এর কাব্যমালা সাজিয়ে তাতে সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন তরুন নিজেই। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। গানটিতে তরুন মুন্সীর সঙ্গে মডেল হিসেবে দেখা যাবে ইপ্সিতা শবনমকে। নতুন এই গান নিয়ে তরুন মুন্সী বলেন, ‘আমার গানের নিজস্ব একটা স্টাইল আছে। সেটা বজায় রেখে বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নতুন গানটি তৈরি করছি। আশা করছি গানটিতে নতুনত্বে ছোঁয়া পাবেন শ্রোতারা।’ ঈদে গানটির মিউজিক ভিডিও অবমুক্ত করা হবে ধ্রুব মিউজিকের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।
টালিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জিকে নিয়ে বছরজুড়েই শোরগোল পড়ে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কয়েক দিন পর পরই নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। সোজাসাপটা কথা বলার জন্য অনেকেই তাকে ‘ঠোঁটকাটা’ বলেও মন্তব্য করেন। বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে পোস্ট করা নিজের বক্তব্য নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন স্বস্তিকা। সেগুলো নিয়েও ব্যাখ্যা দেন এই অভিনেত্রী। হোক সেটা কাজের জন্য হোক বা ব্যক্তিগত জীবন। সম্প্রতি তিনি এমন একটি ছবি পোস্ট করেছে যা দেখে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন। প্রশ্ন উঠছে অভিনেত্রী কি ফের প্রেম করছেন?
অভিনেত্রী বর্তমানে কলকাতার পাশাপাশি অনেকটা সময় মুম্বাইতে কাটাচ্ছেন। কিন্তু এদিন তিনি যে ছবিটি শেয়ার করেছেন সেটা পুদুচেরিতে তোলা। সেটা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কী আছে সেই ছবিতে? অনেকটা দূর থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে সমুদ্র সৈকতে পাথরের ওপর একটি জুটি বসে। খুবই ঘনিষ্ঠভাবে পাশাপাশি বসে আছেন তারা। মুখ স্পষ্ট নয় যদিও। তবে তাদের সামনে থাকা দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র ভাসছে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয়। এই ছবিটি পোস্ট করে টেক্কা অভিনেত্রী রবিঠাকুরের গানের লাইন ধার করে লেখেন, ‘তোমরা যে বলো দিবস রজনী ভালোবাসা ভালোবাসা।’
যদিও ছবিতে থাকা মহিলাটি তিনিই কি না সেটা স্পষ্ট নয়। তিনি ছবিটি তুলে থাকতে পারেন আবার ছবির মহিলাটিও তিনি হতে পারেন। তবে এমন রোম্যান্টিক লাইন দিয়ে ছবিটি পোস্ট করায় তার অনুরাগীদের অনুমান অভিনেত্রী ফের প্রেমে পড়েছেন। এই বসন্তেই তার জীবনে লেগেছে প্রেমের রং। নেটপাড়ার অনুমান প্রেমিকের সঙ্গে পুদুচেরি বেড়াতে গিয়েছেন অভিনেত্রী সেখানেই তুলেছেন এই ছবিটি।
অনেকেই অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি প্রেমে পড়েছেন ভেবে। কেউ আবার জানতে চেয়েছেন তার সঙ্গে থাকা লোকটি কে? কারও আবার প্রশ্ন অভিনেত্রী কি নতুন করে প্রেমে পড়েছেন সত্যিই? কোনো কোনো নেটিজেনের মতে এভাবেই একটু অন্যভাবে প্রেমিকের সঙ্গে আলাপ করালেন অভিনেত্রী। যদিও আসল ব্যাপারটা কি সেটা স্পষ্ট নয়।