ঈদ সামনে রেখে রমজানের শেষ সপ্তাহে বাজারে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সবজির দাম আকাশচুম্বী। দাম বেড়েছে মাংসেরও।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ সবজিতে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা।
শান্তিনগর কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ অনেকটাই কমে এসেছে। শীত-গ্রীষ্মের মাঝামাঝি মৌসুম হওয়ায় সবজির দাম এ সময়ে বেশি বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা।
সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, ‘এখন বাজারে না শীতের সবজি আসছে, না গরমের সবজির মৌসুম শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী এমন অবস্থায় সবসময়ই সবজির দাম বেশি থাকে। মৌসুমি সবজি উঠতে শুরু করলে দাম আবার কমে আসবে।’
মালিবাগ কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করল্লা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও সজনে ডাটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
ঈদের আগে ছুটির দিনে সবজি কিনতে এসে হতাশ ক্রেতারা। তারা বলছেন, রমজানের মাঝামাঝি সময় সবজির দাম অনেকটাই কমে আসলেও শেষের দিকে রীতিমতো আগুনে দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
মালিবাগ কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ইফাজ বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁপে আর ঢেঁড়শ বাদে প্রতিটি সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের বাজারে সরবরাহ কমে আসবে, তাই আগে থেকে সবজি কিনতে এসে দেখি বাজারের বেহাল দশা।’
তবে কমেছে লেবুর দাম। রোজার শুরুতে লেবুর দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা হালি হলেও শেষ সপ্তাহে তা উল্লেখযোগ্য কম দামে বিক্রি হচ্ছে। সিলেটের এলাচ লেবু হালিপ্রতি ২০ টাকা, কাগজি এবং বাতাবি বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
অন্যদিকে, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে বেগুন। জাতভেদে প্রতি কেজি বেগুন এখনও ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং শসা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
ধনেপাতার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা হলেও দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। খুচরা বাজারগুলোতে কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং চালকুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এতকিছুর মধ্যেও আলুর দাম কম। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায় এবং খুচরা পর্যায়ে তার দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আলুর দাম কম থাকলেও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায়। তবে পাইকারিতে প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং দেশি রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। আদার দাম রয়েছে প্রায় আগের মতোই। জাতভেদে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।
দাম বেড়েছে মুরগির মাংসের
ঈদের আগে বেশিরভাগ দোকানে মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে। উত্তর ও মধ্য বাড্ডার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা থাকলেও, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিদরে।
একইভাবে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগিও। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগি সরবরাহ বা পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো সংকট নেই। কিন্তু ঈদের আগে বাজারে অনেক বাড়তি টাকা দিতে হয়। কর্মচারীদের ঈদ বোনাস, বাজারের তোলা টাকা, আড়তের ভাড়া— সব মিলিয়ে বাধ্য হয়েই ঈদের আগে দাম কিছুটা বাড়াতে হয়।
মুরগি বিক্রেতা সবুজ বলেন, ‘ঈদের এই কয়দিন মুরগির দাম একটু বাড়তি থাকবে। এখন যাকে দিয়েই কাজ করাবেন তাকেই ঈদের বকশিস দিতে হবে। সব মিলিয়ে লোকসান এড়াতে মুরগির দাম একটু বাড়াতে হয়েছে।’
বাজারে মুরগির দাম বাড়লেও দাম স্থিতিশীল আছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। জায়গাভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যেই আছে।
ডিমের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের বাদামি ডিম পাইকারিতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ডজন এবং খুচরা পর্যায়ে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিম পাইকারিতে ১১০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে চড়া ইলিশের দাম
মাছের বাজারে প্রায় প্রতিটি মাছের দামই বেড়েছে জিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মতো। সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ।
শান্তিনগর কাঁচাবাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এক কেজির ওপরে ওজন হলে কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে। এছাড়া ছোট সাইজের ইলিশের দামও কেজিপ্রতি ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা।
ইলিশ বিক্রেতারা বলেন, ইলিশের সরবরাহ একেবারেই কম। ছোট ইলিশ কিছুটা পাওয়া গেলেও বড় ইলিশ একেবারেই যৎসামান্য। এদিকে ঈদের আগে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। সব মিলিয়ে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।
অন্যান্য মাছের মধ্যে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে। এক সপ্তাহ আগে মধ্যম সাইজের গলদা চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা থাকলেও এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
এছাড়া রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের আগে প্রায় প্রতিটি পণ্য উচ্চদরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের ছুটি শেষে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাতপবিত্র ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টা।
এরপর এক ঘণ্টা পর পর একটি করে জামাত হবে। শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল পৌনে ১১টায়। গত বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঈদের দিন সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ৭টায় প্রথম ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিববুল্লাহিল বাকী।
মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. আতাউর রহমান।
উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উল ফিতর উদযাপনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ভ্যানগার্ড হিসেবে নগরবাসীর পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক।
শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ডিবি কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম সংক্রান্তে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, রেল স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ডিএমপি সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মহানগরে চেকপোস্ট টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডিএমপির ৫০ টি থানা এলাকায় প্রতিদিন জননিরাপত্তা বিধানে দুই পালায় ডিএমপির ৬৬৭ টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া মহানগর এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ডিএমপি ৭১টি পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে।
ডিবি প্রধান বলেন, পুলিশকে সহায়তা করার জন্য ইতোমধ্যে অক্সিলিয়ারি ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ইউনিফর্মড পুলিশের পাশাপাশি মহানগরীর নিরাপত্তায় ডিবির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিম মাঠে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও নগরবাসীর নিরাপত্তায় ডিবি 'ভ্যানগার্ড' হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ও যাবে। পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বিপণিবিতান, রেল স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ডিবির কার্যক্রম আরো বেগবান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ডিবি সর্বদা নগরবাসীর পাশে রয়েছে। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে ডিবি সদা প্রস্তুত। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, রেলস্টেশন বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে কেউ যাতে নাশকতা করতে না পারে সেজন্য ডিবি গোয়েন্দা নজরদারি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এছাড়া ডিবির সাইবার টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে ঈদ উপলক্ষ্যে যেকোনো অপপ্রচার রোধে ডিবি তৎপর রয়েছে। প্রো অ্যাকটিভ পুলিশিংয়ের অংশ হিসেবে ডিবির জাল সর্বত বিস্তৃত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে ডিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
রেজাউল করিম মল্লিক আরো বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহ রোধে ডিবি অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে ডিবির অভিযানে বিপুল সংখ্যক জালনোট ও জালনোট তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোজা শুরুর দিন থেকে এখন পর্যন্ত ডিবির অলআউট অ্যাকশনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিনতাইকারী, ডাকাত, চাঁদাবাজ ও বিভিন্ন অভ্যাসগত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া ডিবির মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ঈদে মহল্লা, বাসা/মার্কেটে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে তা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি, থানা বা ডিবিকে অবহিত করবেন। তাছাড়া ডিএমপির কন্ট্রোল রুমের নম্বর অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ যোগাযোগ করা যেতে পারে। বিপণিবিতানসহ যে কোনো স্থানে নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কিত যেকোন তথ্য থাকলে ডিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নৌপথে ঘরমুখো বাড়ি ফেরার মানুষের ভীড় বেড়েছে। রমজানের শেষে এসে যাত্রী চাপ বাড়ায় অনেকটা খুশি লঞ্চ মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা। এদিকে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় অনেকটা স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, পন্টুনগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। অন্য দিনগুলোর তুলনায় শুক্রবার লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন লঞ্চগুলোও যথাসময়েই ঘাট ছেড়ে গেছে। মূলত শুক্রবার থেকে সকল বেসরকারি অফিসসহ বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় এ ভিড় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান, দিনের শুরুতেই পল্টুনগুলোতে নৌপথে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের উপস্থিতি গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সকালে চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া, পটুয়াখালীগামী পন্টুনে বেশ ভিড় দেখা যায়। বরাবরের মতো এদিন দুপুরে যাত্রীদের ভিড় সকালের তুলনায় কম থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় দুপুরে ভিড় একেবারে খারাপ ছিল না। বিকেলে আবার যাত্রীর ভিড় বেড়ে জনসমুদ্র তৈরি হয়। এদিন সব থেকে ভিড় ছিল ইলিশা রুটে। ভোলা রুটের লঞ্চগুলোতেও যাত্রী ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেলে বরিশালগামী লঞ্চগুলোতেও যথেষ্ট ভিড় ছিল।
এদিন বরিশালগামী লঞ্চ সুন্দরবন-১০ এ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। লঞ্চটির স্টাফ মোজাম্মেল হোসেন জানান, আগে ঈদের সময় সদরঘাট থেকে বরিশালগামী প্রতিটি লঞ্চের একটি অগ্রিম টিকিট পাওয়ার জন্য যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকতো। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কেবিনের টিকিট না পেয়ে অনেকের মুখ মলিন হতো। একপ্রকার নিরুপায় হয়ে পরিবার নিয়ে ডেকে বসে যেতেন অনেকে। কেউ কেউ ডেকে জায়গা না পেয়ে লঞ্চের ছাঁদে উঠতেন। আবার কেউ নিজ থেকেই টিকিটের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে চাইতেন। কিন্তু সে চিত্র এখন আর নেই। এখন টিকিটের কোনো বাড়তি চাপ নেই। ঘাটে আসলেই টিকিট পাওয়া যায়। এখন খুব বেশি প্রয়োজন হলে যাত্রীরা ফোনে যোগাযোগ করেন।
ইলিশাগামী যাত্রী হারুন শেখ জানান, সদরঘাটে এসেছি জ্যাম ঠেলে। এছাড়া আর কোনো ভোগান্তি নেই। কেবিন পেতে সমস্যা হয়নি। অভিযান-৫ লঞ্চের একটি সিঙ্গেল কেবিন নিয়েছি। ভাড়াও ঠিকঠাক নিয়েছে
ভোলাগামী যাত্রী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সদরঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। ঈদে পরিবারের সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যে বাসায় যাচ্ছি।
সদরঘাটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য রাশেদুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। সবাই সবার দায়িত্ব পালন করছে। এখন পর্যন্ত কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, সদরঘাটে এখনো পর্যন্ত তেমন ভিড় দেখছি না। গার্মেন্টস ছুটি হলেই লঞ্চ ভরবে। আশা করছি ঈদের আগে আরও ভিড় হবে।
লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভিড়ের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা নদীবন্দর, সদরঘাট) মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ঘাটে ভালোই ভিড় আছে। বিশেষ লঞ্চও চলছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ৪৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বাসসহ তিন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি-রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিম। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার মূল্য প্রায় ৯২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গ্রেপ্তাররা হলেন, আবুল হোসেন (৫৫), স্বপন কুমার নট্র ওরফে সালমান (৪২) ও শাকিল (২৩)। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল সোয়া ১০ টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি-রমনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিম গোয়েন্দা তথ্যে জানতে পারে কয়েকজন মাদক কারবারি বাসে করে ইয়াবা নিয়ে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগের দিকে আসছে। এমন তথ্যে অভিযান চালিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগ এলাকার ফুট ওভার ব্রিজের দক্ষিণ পাশে চেকপোস্ট স্থাপন করে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার করে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়।
পরে গ্রেপ্তাররা দেখিয়ে দিলে বাসের মধ্যে বিশেষ কায়দায় রাখা ৪৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় ৯২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ঢাকায় এনে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করত।
রাজধানীর ধানমন্ডি ৮ নম্বর সড়কের ভিকারুননিসা স্কুলের গলিতে ছয়তলা একটি ভবনে র্যাব-ম্যাজিস্ট্রেট-ছাত্র পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। বুধবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতরা ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে “অলংকার নিকেতন নামে একটি জুয়েলার্স ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রায় ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
পুলিশ বলছে, ডাকাতি করতে যাওয়া দলটির অভিযানে যাওয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতোই প্রস্তুতি ছিল। ডাকাতদলের কয়েকজনের পরনে র্যাব লেখা কটি (জ্যাকেট) ছিল। অন্যরা নিজেদের ম্যাজিস্ট্রেট ও ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়।
এ ঘটনায় বুধবার (২৬ মার্চ) ভোরের ওই ঘটনার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ওই দলের চারজন ও রাতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনার সময় চারজনকে আটকের পুরস্কার পাচ্ছেন পাঁচ জন শ্রমিক। সাহসিকতার জন্য ওই পাঁচ শ্রমিককে পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে এই পাঁচ শ্রমিককে পুলিশের অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের-ডিএমপি রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ফরহাদ বীন মোশারফ (৩৩), ইয়াছিন হাসান (২২), মোবাশ্বের আহাম্মেদ (২৩), ওয়াকিল মাহমুদ (২৬), আবদুল্লাহ (৩২) ও সুমন (২৯)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ‘র্যাব’ লেখা কালো রঙের দুটি জ্যাকেট, তিনটি কালো রঙের র্যাব লেখা ক্যাপ, একটি মাইক্রোবাস, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি লোহার তৈরি ছেনি, একটি পুরাতন লাল রঙের স্লাই রেঞ্জ ও নগদ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মাসুদ আলম বলেন, ওই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রে ২৫-৩০ জন ছিল। অপারেশন পরিচালনার জন্য পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ধরণের প্রিপারেশন নিয়ে যায়, সে ধরণের ফুল প্রিপারেশন তাদের ছিল। তাদের সঙ্গে র্যাবের কটি এবং জ্যাকেট পরা অবস্থায় লোকজন ছিল। মাইক্রোফোন হাতে মিডিয়ার লোক সেজে ছিল, তাদের ৫-৬ জন ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ে গিয়েছিল।
ডাকাতির বিবরণে তিনি বলেন, ধানমন্ডি ৮ নম্বর সড়কের ওই বাড়িটির মালিক এম এ হান্নান আজাদ নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর। যার ‘অলংকার নিকেতন জুয়েলার্স’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তার বসুন্ধরায় দোকানের পাশাপাশি তাঁতীবাজারে কারখানা রয়েছে। বাড়িটির নিচতলায়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় এস এম সোর্সিংয়ের অফিস আছে। এ ছাড়া ওই বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় একটি কনসালটেন্সি অফিস এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট রয়েছে।
তিনি বলেন, ডাকাত দলটি তিনটি মাইক্রোবাস এবং একটি প্রাইভেটকারে ওই বাসার সামনে এসে গেটে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের বলে, তারা র্যাবের লোক, তাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট আছে। তারা বাড়িতে অভিযান চালাবে বলে তাড়াতাড়ি গেট খুলতে বলে। তাদের কয়েকজনের গায়ে র্যাব লেখা কটি পরা ছিল।
দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। তখন ডাকাতরা সিকিউরিটি গার্ডদের গালাগালি করতে থাকে এবং গেইট না খুললে তাদের হত্যার হুমকি দেয়। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন গেইটের উপর দিয়ে উঠে জোর করে গেইট খুলে ফেলে। এরপর তারা সবাই বাড়িতে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী, কেয়ারটেকার ও গাড়ি চালককে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে।
ব্যবসায়ীর বাসায় স্বর্ণ থাকতে পারে ধারণা করে ডাকাত দলটির টার্গেট ওই বাসা থাকলেও তারা নিচতলায় এস এম সোর্সিংয়ের অফিস থেকেই ‘তল্লাশির’ নামে লুটপাট শুরু করে জানিয়ে ডিসি বলেন, নিচতলার অফিসের গেট ভেঙে পিয়নকে মারধর করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে সেখান থেকে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে ডাকাতরা তাকে ভয়তীতি দেখিয়ে তৃতীয় তলায় গিয়ে এস এম সোর্সিংয়ের অফিসের গেট ভেঙে ফেলে। এ সময় গেট ভাঙার শব্দ পেয়ে চতুর্থ তলায় থাকা এস এম সোর্সিংয়ের তিনজন অফিস সহকারী তৃতীয় তলায় নেমে আসেন। ডাকাতরা তখন তাদেরকেও আটক করে মারধর করে অফিসের চাবি ও বাসার চাবি দিতে বলে। পরে তারা জোর করে চাবি নিয়ে তৃতীয় তলার অফিসের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ২২ লাখ টাকা লুট করে নেয় ও অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ডাকাতদের আরেকটি দল চতুর্থ তলার অফিসে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ ১৩ লাখ টাকা লুট করে নেয়।
মাসুদ আলম বলেন, সবশেষে তারা বাড়ির মালিক এম এ হান্নান আজাদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। বাসা থেকে দেড়লাখ টাকা, স্বর্ণের কানের দুল ও চেইনসহ আনুমানিক আড়াই ভরি স্বর্ণ লুট করে নেয়। এরপর তারা মালিক এম এ হান্নানকে জোর করে নিচে নামিয়ে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে।
উপকমিশনার বলেন, এরইমধ্যে কেউ একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে খবর দিলে ধানমন্ডি থানার একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ডাকাত দলের লোকজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের সদস্যদের হাতাহাতিও হয়, এতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। তখন আশেপাশে থাকা লোকজনের সহায়তায় পুলিশ চারজনকে আটক করে। ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যবসায়ীর ভাগ্নে তৌহিদুল ইসলামের করা একটি মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে রাতে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি গাড়িসহ আবদুল্লাহ ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ছয় জনের বাইরে যারা আছে শিগগিরই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো বলে আশা করছি। তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে, রিমান্ডে এনে এসব তথ্য ক্রসচেক করব। যেহেতু ২৫-৩০ জনের মতো একটা টিম কাজ করেছে, তাই বাকিদের গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে কিছু তথ্য আমরা পরে ডিসক্লোজ করতে চাচ্ছি।
ওই দলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য জড়িত কি-না অথবা রাজনৈতিক কোনো পরিচয় রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ছয়জনকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবো।
এ সময় ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ধানমন্ডিতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদের প্রতিরোধ করা এবং তাদের ধরতে সহায়তা করায় পাঁচজন শ্রমিকের নাম পাওয়া গেছে। সাহসিকতার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পাঁচ শ্রমিকের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া এই পাঁচ জনকে অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
রাজধানীজুড়ে টহল ও তল্লাশিচৌকি ‘জোরদারের’ পরও এতো বড় একটা ডাকাত দলের ডাকাতির বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোজা ও ঈদ ঘিরে আমাদের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার ও তল্লাশিচৌকি স্থাপন। দুই-একটা ঘটনা যেগুলো ঘটছে সঙ্গে সঙ্গে ডিটেক্ট করছি। আমরা আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করছি, সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূলহোতাসহ ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৩। গোয়েন্দা তথ্যে ও প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের ৩১৪টি সিটের ৮২টি টিকিট ও বিপুল পরিমাণ মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।
আজ বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরের ঝিলপাড় র্যাব-৩ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর উপঅধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকেটের বিপুল চাহিদা থাকে। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী ও টিকিট কালোবাজারি চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ স্বস্তিকরভাবে টিকিট পায় না। তবে অনলাইনে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারি চক্র বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সাধারণ যাত্রীদের কাছে ২-৩ গুণ বেশি দামে বিক্রি করে।
উপঅধিনায়ক বলেন, বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে টিকিট কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। গত বুধবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁও বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্য রিয়াজুল ইসলামকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে, গতকাল ভোরে র্যাব-১১ এর সহায়তায় চক্রের মূলহোতা মো. সেলিমকে (৫৩) রাজধানীর ডেমরা থানার ডগাইর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সেলিমের দেওয়া তথ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে আরও ৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৮২টি ট্রেনের টিকিট, ৯৫টি মোবাইল সিম, ১০টি মোবাইল ফোন, ১টি এনআইডি, ১টি ঘড়ি, ৪টি এটিএম কার্ড, ১টি সিপিইউ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে অনলাইনে সস্তায় টিকিট কিনে সাধারণ যাত্রীদের কাছে গোপনে এবং অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করত। তারা ট্রেন ছাড়ার ৩/৪ ঘণ্টা আগে থেকে টিকিট বিক্রির তৎপরতা শুরু করত, এবং ট্রেন ছাড়ার সময় যত ঘনিয়ে আসতো টিকিটের দাম তত বৃদ্ধি পেত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, রিয়াজুল এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সেলিমের প্ররোচনায় অবৈধ টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণা করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
প্রায় পাঁচ বছর আগে অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) আদালত এই রায় দিয়েছেন।
ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
পরে আদালত প্রাঙ্গণে ইশরাকের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল করে নেতাকর্মীরা।
ইশরাক অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা এখন ষষ্ঠ। সোমবার (২৪ মার্চ) সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ছিল ১৭৩। এই বায়ুমানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেনেগালের ডাকার, ভারতের দিল্লি ও পাকিস্তানের লাহোর যথাক্রমে ২৩৮, ২১৯ ও ২০২ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
যখন কণা দূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে তখন বায়ুর গুণমানকে ’মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ’সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে ’অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে ’খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে ’বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো-বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।
বায়ুদূষণে যে স্বাস্থ্যসমস্যা হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বে যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেই তালিকায় দ্বিতীয় হচ্ছে বায়ুদূষণ। আর প্রথম হচ্ছে রক্তচাপ।
স্বল্প-সময়ের জন্য বায়ুদূষণের কবলে পড়লে অ্যাজমা হতে পারে, এমনকি হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব বয়স্কদের আগে থেকেই চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এমন ঝুঁকি বেশি। আর দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণে থাকলে হার্ট ও ফুসফুসের মারাত্মক সমস্যা দেখা দেওয়ার শঙ্কা আছে। যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ও ফুসফুসে প্রদাহ হতে পারে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে ৫০ কোটির বেশি শিশু অস্বাস্থ্যকার বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। প্রতিদিন পাঁচ বছরের কমবয়সী ১০০টি শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে।
ইউনিসেফের পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক জুন কুনিজি বলেন, বায়ুদূষণে শিশুদের বৃদ্ধি কমে যায়, ফুসফুসে ক্ষতি করে এবং মানসিক দক্ষতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিটি শ্বাসই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা বহুশিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের এই মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম ওরফে সোহেল রানা (৩৪), মো. আল মামুন (৩২), মোহাম্মদ ফারুক ওরফে ওমর ফারুক (৪৬) ও ফারুকের স্ত্রী তানিয়া (৩২)।
ডিএনসি বলছে, গ্রেপ্তাররা পেশাদার মাদক কারবারি চক্রের সদস্য। চক্রটি বায়িং হাউজ ও আবাসন ব্যবসার আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা করে আসছিল। জব্দ করা মাদকের চালানটি রাজধানীতে এযাবৎ কালের জব্দ করা সবচেয়ে বড় চালান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয় গোপন সংবাদে জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র বায়িং হাউজ এবং আবাসন ব্যবসার আড়ালে টেকনাফ থেকে বিলাসবহুল গাড়ীতে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকায় আনছে। পরে এসব ইয়াবা রাজধানীর শহরের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায়সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারী মাদক ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করছে। এমন তথ্যে ডিএনসি কর্মকর্তারা তখন থেকেই তাদের উপর কড়া নজরদারী করে আসছিল।
সর্বশেষ প্রায় এক সপ্তাহ আগে জানা যায়, চক্রটি আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঁচারের উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ের একটি টিম হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। এসময় একটি হুন্দাই প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-৪৫৫০) জব্দ করা হয়।
অভিযানে প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা ধাওয়া করে মাদক বহনকারী গাড়িটি আটক করা হয় জানিয়ে উপ পরিচালক আরও বলেন, আটকের পর তাদের গাড়ি তল্লাশি করে কিছু পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে গোয়েন্দাসূত্রে নিশ্চিত হয়ে প্রাইভেটকারের প্যানেলের ঝালাই করা অংশটি খুলে এই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে শামীম আহমেদ বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক কারবারিরা অর্জিত অর্থ দিয়ে বায়িং হাউজ ও আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান এই ডিএনসি কর্মকর্তা।
রাজধানীর মিরপুরে পল্লবী এলাকায় সেলিম (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, স্থানীয় মাদক কারবারিরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে সেলিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সেলিম এক সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মিরপুর ১১ পল্লবীর বিহারী ক্যাম্প ওয়াপদা কলোনি বিল্ডিংয়ে থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, ইফতারের পরপরই ওয়াপদা বিল্ডিংয়ের পাশে মাঠে শত্রুতার জেরে সেলিমকে কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যায়।
হাসপাতালে নিহতের আত্মীয় আশিকুর রহমান ও খালা ইয়াসমিন দাবি করেন, স্থানীয় মাদক কারবারি পারভিন, রনি, জনি, সীমা ও রানীসহ আরও বেশ কয়েকজন শত্রুতার জেরে সেলিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
রাজধানীতে খিলগাঁও, মুগদা ও হাতিরঝিল এলাকায় পৃথক ঘটনায় ৪ কিশোরীসহ ৫ জনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়ক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঢাকার পৃথক এলাকা থেকে ৫ ভুক্তভোগীকে ওসিসিতে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের ফরেনসিক পরীক্ষা আগামীকাল শনিবার করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার কিশোরীসহ ৫ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর কয়েকটি থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মুগদা থানায় তিন কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা হয়। পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী তিন কিশোরীর বয়স যথাক্রমে- ১২, ১৩ ও ১৫ বছর।
এ বিষয়ে মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন জানান, গত বুধবার (১৯ মার্চ) ইফতারের পর ১২ বছরের কিশোরীকে জব্বার নামে এক প্রতিবেশী বাসায় একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে অভিযুক্ত জব্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই এলাকায় গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ১৩ বছরের অন্য এক কিশোরীকে প্রতিবেশী পিন্টু চন্দ্র দাস ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় কিশোরীর বাবা-মা বাসার বাইরে ছিলেন। এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত পিন্টু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই জনকে আদালতে পাঠালে তারা দায় স্বীকার করেছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ মার্চ ১৫ বছরের এক কিশোরী নিজ বাসায় ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় মামলার পর সিয়াম আহমেদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস মাহমুদ জানান, বেশ কয়েকদিন আগে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। এ রকম অভিযোগে গত বুধবার ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। মামলার পর ওই দিনই কিশোরীকে খিলগাঁও ত্রিমোহনী এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আলিফকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত আলিফের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জেরে তারা দুজন গত মাসে পালিয়ে যায়। পরে কিশোরীর পরিবার অপহরণ মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানান, বুধবার ২২ বছরে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় আসামিকে ধরার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামির নাম জানানো যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই তরুণীর পূর্ব পরিচিত। বিয়ের আশ্বাসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিকে ধরতে চেষ্টা চলছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপন এবং ঈদে বাসাবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের সার্বিক নিরাপত্তায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বুধবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পুলিশকে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে অক্সিলারি পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পুলিশের পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতাবোধ তৈরি করা গেলে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ও অপরাধ দমনে অধিকতর সফল হওয়া সম্ভব।
ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ঈদে বাসাবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলো হলো–
১.বাসাবাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংক-বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রক্ষীদের ডিউটি জোরদার করতে হবে এবং যেকোনও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একসঙ্গে ছুটি না দিয়ে একটি অংশকে দায়িত্বপালনে নিয়োজিত রাখা যেতে পারে।
২.বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান ত্যাগের আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করে যেতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক তালা ব্যবহার করা যেতে পারে। দরজা-জানালা দুর্বল অবস্থায় থাকলে তা মেরামত করে যথাসম্ভব সুরক্ষিত করতে হবে।
৩.বাসাবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং স্থাপিত সিসি ক্যামেরা সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৪.বাসাবাড়ির মূল দরজায় অটোলক ও নিরাপত্তা অ্যালার্মযুক্ত তালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫.রাতে বাসা ও প্রতিষ্ঠানের চারপাশ পর্যাপ্ত আলোকিত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬.অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ও দলিল নিরাপদ স্থানে বা নিকট আত্মীয়ের হেফাজতে রেখে যেতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
৭.বাসাবাড়ি ত্যাগের আগে যে সব প্রতিবেশী/পাশের ফ্ল্যাটের অধিবাসী ঢাকায় অবস্থান করবেন তাদের বাসার প্রতি লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করতে হবে এবং ফোনে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
৮.ভাড়াটিয়াদের আগেই বাসার মালিককে ঈদ উপলক্ষে বাসা ত্যাগের বিষয়টি জানাতে হবে।
৯.অনুমতি ছাড়া কেউ যেন বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে এ বিষয়ে বাসা বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীকে সতর্ক করতে হবে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে।
১০.বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠান ত্যাগের আগে লাইট, ফ্যানসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক লাইনের সুইচ, পানির ট্যাপ, গ্যাসের চুলা ইত্যাদি বন্ধ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
১১.বাসা বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির গ্যারেজ সুরক্ষিত রাখতে হবে।
১২.বাসার জানালা-দরজার পাশে কোনও গাছ থাকলে অবাঞ্ছিত শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলতে হবে যাতে অপরাধীরা গাছের শাখা-প্রশাখা ব্যবহার করে বাসায় প্রবেশ করতে না পারে।
১৩.মহল্লা বা বাড়ির সামনে সন্দেহজনক কাউকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে জানাতে হবে।
১৪.ঈদে মহল্লা বা বাসায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে তা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও জানাতে হবে।
জরুরী প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৩২০-০৩৭৮৪৫; ০১৩২০-০৩৭৮৪৬, ২২৩৩৮১১৮৮, ০২৪৭১১৯৯৮৮, ০২৯৬১৯৯৯৯ এবং জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।