রোববার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১

পোশাক শিল্প ‘সংকটে’ নেই: বিজিএমইএ সভাপতি

‘মেডইন বাংলাদেশ উইক’ উপলক্ষে বিজিএমইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১২ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৪০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১২ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৩২

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, ‘পোশাক শিল্প বর্তমানে কোনো সংকটের মধ্যে নেই। অনেকেই সংকটের কথা বলেন, কিন্তু এলসি খোলাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে কোনো ব্যাংকিং সমস্যা নেই। সবাই খালি নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে, কেউ ইতিবাচক সংবাদ প্রচারে এগিয়ে আসে না।’

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মেডইন বাংলাদেশ উইক’ উপলক্ষে বিজিএমইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ফারুক হাসান বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের অজুহাতে দেশের ভেতরে ও বাইরে অনেকে ক্রেতাদের মধ্যে প্যানিক (আতঙ্ক) সৃষ্টি করছেন। এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে। আপনারা দেখেছেন, অনেক ফ্যাক্টরিতে নিজস্ব সোলার ব্যবহার করা হয়। তবে যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে কেন এত বড় আয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, ‘বৈশ্বিক এই মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা আমাদের কোয়ালিটি নিশ্চিত করেই কাজ করেছি। এই বিজিএমইএ বাংলাদেশ উইকে অংশ নিতে ৭০০ বিদেশি আসছেন। তারা এখানে ডলার নিয়ে আসবেন। এতে সরকারের বিপুল রেমিট্যান্স আয় হবে।’

তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনা থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি। এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা বায়ারদের দেখাতে চাই, আমরাও পারি। এজন্যই এ আয়োজন করা।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘সবাই বলেন আমাদের দেশে সংকট, তবে আমরা সংকটের কথা বলে বায়ারদের ভয়ে ফেলতে চাই না। আমাদের উদ্দেশ্য সবাইকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।’

তবে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বর্তমানে পোশাক মালিকরা অনেক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। খুব দ্রুত এ সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া না গেলে যে কোনো সময় কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা আরও কঠিন সমস্যার মধ্যে আছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনায় বলেছে, ব্যাক টু ব্যাকের দায় যদি এক দিনও কেউ দেরি করে তাহলে তাদের এডি লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হাতেম বলেন, ‘এই চিঠি পাওয়ার পর থেকে সব ব্যাংক ব্যাক টু ব্যাক এলসি বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের ম্যাক্সিমামই ব্যাক টু ব্যাকের এলসি ওভার ডিউ হচ্ছে। কারণ, বায়াররা পেমেন্ট দিচ্ছে না। শিপমেন্ট নিচ্ছে না। শিপমেন্ট গেলেও ১৮০ দিন পর পেমেন্ট দেবে। এসব কারণে দেখা যাচ্ছে, আমরাও পেমেন্ট পাচ্ছি না, তাই আমরা পেমেন্ট দিতেও পারছি না। যেহেতু পেমেন্ট দিতে পারছি না, সেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর থেকে সব ব্যাংক হাত-পা গুটিয়ে বসে গেছে।’

বর্তমানে জ্বালানিসংকটের কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি দেশের অন্যতম রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের দৈন্যদশায় কারখানা মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশের নতুন এই নির্দেশনা আমাদের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বায়ারদের যা অর্ডার আছে সেগুলোও এক্সপোর্ট করতে পারব না।’

মিরপুরের একটি গার্মেন্টস কারখানার মালিক জানান, বিজিএমইএর নেতারা সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন। যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়। এখনো প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আর গ্যাসের সমস্যা তো বহু পুরোনো।

তিনি যোগ করেন, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বলেছেন, গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করতে। কিন্তু এটা করতে এখন অতিরিক্ত আরও ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা বর্তমান সংকট পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তবে এলসি খুলতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখনো শঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন যাচ্ছে। ডিসেম্বরে কী হয় তা বলা কঠিন। গ্যাস-বিদ্যুৎসংকটের মধ্যে নতুন করে বৈশ্বিক কারণে অনেক বায়ার অর্ডার করা পোশাকের ২০ শতাংশের বেশি নিচ্ছে না। আবার নতুন অর্ডার না থাকায় আমাদের উৎপাদনও কমে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।’


ছুটি শেষে প্রথমদিনের লেনদেনে ঢাকায় পতন, চট্টগ্রামে উত্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
unb

ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে পুরোদমে চালু হওয়া পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেনে পতনের মুখে পড়েছে ঢাকার বাজার, সামান্য উত্থান হয়েছে চট্টগ্রামে।

রবিবার (৬ এপ্রিল) লেনদেনের শুরু থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পতন হতে থাকে সূচকের। লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৩ পয়েন্ট।

বাকি দুই সূচকের মধ্যে শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস কমলেও বেড়েছে বাছাইকৃত ভালো কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক। ডিএস-৩০ এ সারাদিনের লেনদেনে ১৪ পয়েন্ট উত্থান হয়েছে।

প্রথমদিন লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৯৩টি কোম্পানি, যার মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল নিম্নমুখী। ১০১টি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে দাম কমেছে ২৬২ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ক্যাটাগরির হিসাবে তিন ক্যাটাগরি- এ, বি এবং জেডে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানিই সুবিধা করতে পারেনি লেনদেনে।

তবে ভালো অবস্থানে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেন হওয়া ৩৬ মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৩টির, কমেছে ২টির। তবে অপরিবর্তিত আছে এক কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ঢাকার পুঁজিবাজারে ব্লক মার্কেটে মোট ১৮টি কোম্পানির ১০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। বিচ হ্যাচারি লিমিটেড সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।

সারাদিনে ডিএসইতে মোট ৪১৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ২৭ মার্চে এই পরিমাণ ছিল ৩১৫ কোটি টাকা।

লেনদেন বাড়ার কারণ হিসেবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো বলছে, সূচক কমতে থাকায় দিনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির ঝোঁক ছিলো। অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রির কারণে লেনদেন বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু এটি বাজারের জন্য ভালো কোনো বার্তা নয়।

ডিএসইতে পতনের দিনে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম বেড়ে শীর্ষ শেয়ারে জায়গা করে নিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। দিনের শুরুতে শেয়ারপ্রতি ৯৮ টাকায় লেনদেন শুরু হলেও দিন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৮.৮০ টাকা।

অন্যদিকে, ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ দাম হারিয়ে তলানিতে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড। ১০৭ টাকা শেয়ারপ্রতি দর নিয়ে লেনদেনে শুরু করলেও দিন শেষে বিচ হ্যচারি প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে হয়েছে ৯৯.৮০ টাকা।

চট্টগ্রামে সামান্য উত্থান

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের সামান্য উত্থান হয়েছে। সারাদিনের লেনদেনে সিএসই'র সার্বিক সূচক বেড়েছে ৩ পয়েন্ট।

তবে সূচক বাড়লেও সিএসইতে দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির। লেনদেনে অংশ নেয়া ১৭৯টি কোম্পানির মধ্যে ৭০টি কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৮৪ টির। তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির।

সিএসইতে সারাদিনে মোট ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, সর্বশেষ কার্যদিবস ২৭ মার্চে যা ছিল ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ১০ শতাংশ দাম বেড়ে ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও শীর্ষে আছে বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড।

অন্যদিকে ১০ শতাংশ দাম হারিয়ে তলানিতে নেমে এসেছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।


পুঁজিবাজারের অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফায় ধস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের অর্থনীতি সংকটের চক্রে আটকে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, সুদের হার চড়া, উৎপাদন খরচ বেড়েছে আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা টলোমলো। এসব কারণে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানি মুনাফায় চাপের মুখে পড়েছে, অনেক কোম্পানি লাভ থেকে লোকসানে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে না পারলে পুঁজিবাজারের দুরবস্থা কাটবে না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ১৬৭টি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) মাত্র ৬৮টি কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে, যা মোট কোম্পানির ৪০ শতাংশ। অপরদিকে ৯৮টি কোম্পানি বা ৬০ শতাংশ মুনাফায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কোম্পানি মুনাফা থেকে সরাসরি লোকসানে চলে গেছে, আর ৩৭টি কোম্পানির লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘সব খাতের ব্যবসা খারাপ করছে, বিশেষ করে স্টিল, সিমেন্টসহ অন্য ছোট শিল্প খাতগুলোর অবস্থা আরও খারাপ।’ তবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলে ও মানুষের আস্থা ফিরে এলে ব্যবসার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করবে। এতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে ৬৮টি কোম্পানির মুনাফা বাড়লেও এগুলোর প্রবৃদ্ধির হার খুব বেশি নয়। মাত্র দুটি কোম্পানির মুনাফা ১০০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আরেকটি কোম্পানি ৫০০ শতাংশের বেশি মুনাফা করেছে। ৩০০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫টি কোম্পানির, ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে দুটি কোম্পানির, ১০০ শতাংশের ঘরে রয়েছে ১১টি, ৫০ শতাংশের বেশি মুনাফা করেছে আরও ১১টি কোম্পানি। মুনাফা বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, যার মুনাফা ১৩৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এরপর জেএমআই সিরিঞ্জ ১০৪০ শতাংশ, ইফাদ অটোজ ৭৩৩ শতাংশ, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড ৪০০ শতাংশ এবং মতিন স্পিনিং ও ডমিনেজ স্টিল ৩৫০ শতাংশ মুনাফা করেছে।

অন্যদিকে ৪৬টি কোম্পানির মুনাফা কমেছে, যদিও তারা এখনো লোকসানে পড়েনি। তবে ১৫টি কোম্পানি আগের ছয় মাসে মুনাফায় থাকলেও এবার লোকসানে পড়েছে। এ তালিকায় রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা, বারাকা পতেঙ্গা, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, সি পার্ল, ইনটেক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, জেমিনি সি ফুড, সাফকো স্পিনিং, এভিন্স টেক্সটাইল, মেঘনা সিমেন্ট, আমরা টেকনোলোজিস, ইস্টার্ন কেব্‌ল, বসুন্ধরা পেপার, দেশবন্ধু পলিমার ও এনার্জি প্যাক।

লোকসান আরও বেড়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ৩৭টি। ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে তারা লোকসান করলেও ২০২৪ সালের একই সময়ে সেই লোকসানের মাত্রা আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়েছে আনলিমা ইয়ার্ন, যার লোকসান ১৯৫০ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে সিলভা ফার্মা ২৫৮ শতাংশ, পেনিনসুলা ২৫৫ শতাংশ, ঢাকা ডাইং ২৩২ শতাংশ ও বিবিএস কেব্‌লস ২২৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের উচ্চ হার এবং মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা কোম্পানিগুলোর মুনাফায় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডিএসই পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেছেন, অধিকাংশ কোম্পানি ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য চাপ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, পুঁজিবাজার কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছে। ভালো কোম্পানি বাজারে না এলে এবং বাজারের গভীরতা না বাড়লে এ সংকট কাটবে না।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম শেয়ারবাজারের আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করেন, বাজারের কাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন করা জরুরি, না হলে আস্থার সংকট থাকবে।

বিএসইসির একজন নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোম্পানিগুলোর মুনাফা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। তবে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার কমলে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, আস্থা পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পুঁজিবাজারে সংকটের কারণ মূলত অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, চড়া সুদের হার, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এবং সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে এর জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা ও বাজারকাঠামোর উন্নতি প্রয়োজন।


শুল্ক নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ সুবিধা ভারতের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক, আর এই পণ্যের বড় গন্তব্য হলো যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হার বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ হওয়াটা স্বাভাবিকই।

কিন্তু সেই মাথাব্যথাটা আরও বাড়ে, যখন সেই বাজারে বাংলাদেশের অন্য প্রতিযোগীদের ওপর শুল্ক হারে বিভিন্নতা থাকে। যদি বাংলাদেশের চেয়ে শুল্ক হার বেশি হয়, তাহলে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। যেমন চীনের ওপর বেশি শুল্ক ধার্য করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা খুশি হয়েছিলেন গত জানুয়ারিতেই।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ। তাদের ওপর বাড়তি শুল্কের পর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি গিয়েছিল বেড়ে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা পালে হাওয়া দেখছিলেন। কিন্তু সেখানে বজ্রাঘাত এল বুধবার; যখন ট্রাম্প শতাধিক দেশের জন্য পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেন বিভিন্ন হারে।

তাতে চীনের পাশাপাশি ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক ধরা হলেও বাংলাদেশের চেয়ে শুল্ক কম ধরা হয়েছে ভারতের। আর এতেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের একজন ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। কারণ তিনি দেখছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখন বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ভারতের। পারভেজ বলেন, এমনিতেই গত বছর থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য বায়ারদের কাছ থেকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছিলেন তারা। এখন যোগ হলো শুল্ক। আর এতে ভারতের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

ভারতে রপ্তানিকারকদের সংস্থা ফিকোর মহাপরিচালক অজয় সাহা বলেছেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তবে অন্য অনেক দেশের তুলনায় আমরা কিছুটা ভালো অবস্থায় আছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন ও ভিয়েতনামের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। তার ঠিক এক ধাপ নিচে অর্থাৎ চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৩৪ কোটি (৭.৩৪ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। একই বাজারে ভারতের রপ্তানি ছিল ৪৬৯ কোটি (৪.৬৯ বিলিয়ন) ডলার। গত বছর ভারতের রপ্তানি তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি হয়েছিল। ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে সম্পূরক শুল্ক বসিয়েছেন ২৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যে তিনি খাতির করেছেন, তাও অকপটে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদী আমার বন্ধু। সবে তিনি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, আপনি আমার খুবই ভালো বন্ধু হতে পারেন, কিন্তু আপনি আমাদের সঙ্গে ঠিক ব্যবহার করছেন না। ভারত আমাদের পণ্যে ৫২ শতাংশ শুল্ক বসায়, আমরা ২৬ শতাংশ বসালাম।”

ভারতের পণ্যের ওপর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই শতাংশ শুল্ক বসানো ছিল। এখন তার সঙ্গে ২৬ শতাংশ যোগ হলে সব মিলিয়ে দাঁড়াবে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আগেই শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ; তার সঙ্গে এখন ট্রাম্প যোগ করলেন ৩৭ শতাংশ। ফলে দুই মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ঢোকাতে ৫২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। অর্থাৎ ১০০ ডলারের পণ্য রপ্তানি করলে ৫২ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

এটা ভারতের প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা বাংলাদেশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতের দিকে চলে যাবে বলে আশঙ্কা জাগছে দেশের পোশাক ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

এর আগে চীনের পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে যে সুযোগ বাংলাদেশ নিয়েছিল, এখন তেমনই সুযোগ নিতে চাইবে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

পারভেজ বলেন, “আমাদের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। তালগোল পাকিয়ে গেছে সবকিছু। কী হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।

“এটা তো নিশ্চিত যে এই শুল্ক আমাদের রপ্তানির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। এখন কতটা পড়বে, তা নিয়েই আতঙ্কিত আমরা।”

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা যেমন আতঙ্কিত, তেমননি বাংলাদেশ সরকারেরও শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে এই তৈরি পোশাক। সঙ্কটের মধ্যে এই খাতই ডলারের জোগানের বড় উৎস।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ে ৮০ শতাংশের বেশি অবদান তৈরি পোশাক খাতের। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশের মতো আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখানেও বড় অবদান তৈরি পোশাকের।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ হাজার ৯২৬ কোটি (৭৯.২৬ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি হয়েছিল। এই বাজারে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে- চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাদেশের পরের স্থানে থাকা ভারতের গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ৪৬৯ কোটি (৪.৬৯ বিলিয়ন) ডলারের। তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন। আগের আড়াই শতাংশ যোগ করলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় তাদের ওপর আরোপিত শুল্ক কম। আবার দেশটির সরকার তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে বলে ভারতে ক্রয়াদেশ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ। ২০২৩-২৪ সালে ৭ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য ভারত রপ্তানি করেছে। ভারত থেকে তৈরি পোশাক ছাড়াও ওষুধ, টেলিকম যন্ত্রাংশ, দামি ও মাঝারি দামের পাথর, পেট্রোলিয়াম পদার্থ, সোনা ও অন্য ধাতু, লোহা-ইস্পাতের মতো পণ্য বেশি রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে।

ট্রাম্পের শুল্কের বড় প্রভাব পড়লেও এখনই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানিতে ধস নামবে বলে মনে করেন না বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীতি টেকসই হবে কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। কারণ, বাড়তি শুল্কের চাপ শেষ পর্যন্ত তাদের ভোক্তার ওপর পড়বে। ফলে তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হবে।”

তবে পারভেজ বলেন, “এই অতিরিক্ত শুল্কের চাপে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের প্রথমেই পোশাকের দাম কমানোর ওপর চাপ দিতে পারে। এখন যে ক্রয়াদেশ আছে, সেগুলোর দামও কমাতে বলতে পারে। ফলে সম্মিলিতভাবে সেই চাপ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।”

বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কৌশল নির্ধারণ করতে সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি।


বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুসারে, মার্কিন সরকার দাবি করেছে, বাংলাদেশ কার্যকরভাবে আমেরিকান পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। জবাবে, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে ৩৭ শতাংশ ‘ছাড়প্রাপ্ত পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করা হবে।
আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ট্রাম্প এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। মার্কিন পণ্য রফতানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ যে ব্যাপক বাধা তৈরি করে রেখেছে, সেই ‘অন্যায় বাণিজ্য চর্চা’ প্রতিরোধেই ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিতে সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্কের একটি ভিত্তিরেখা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব দেশ—মার্কিন প্রশাসনের ভাষায়—মুদ্রার অপব্যবহার, সুরক্ষাবাদ কিংবা অন্যান্য অ-শুল্ক বাধা তৈরি করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্যহারে উচ্চমাত্রায় শুল্ক আরোপ করা হবে।
আকস্মিক এই শুল্কারোপে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত। এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কিছুটা কমে আসবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা। একইসাথে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপরও এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ভারতীয় পণ্যে ২৬ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, দেশটিতে মার্কিন পণ্য রফতানিতে ৫২ শতাংশ বাধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাজারে মার্কিন পণ্যের জন্য ৫৮ শতাংশ বাণিজ্য বাধা রয়েছে।
গেল কয়েক দশক ধরে একপাক্ষিক এই বাণিজ্য সম্পর্ক চলে আসছে, যা অনেক আগেই সংশোধন করা উচিত ছিল বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এতে দেশগুলো থেকে পাল্টা পদক্ষেপ আসতে পারে এবং মার্কিন ব্যবসা ও পরিবারগুলোতে খরচ বেড়ে যেতে পারে।


বিমসটেক সদস্যদের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আহ্বান ঢাকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন বিমসটেকের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে বাণিজ্য সংক্রান্ত ছয়টি মৌলিক চুক্তির সময়মত চূড়ান্তকরণ নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্যাংককে ২৫তম বিমসটেক সিনিয়র কর্মকর্তাদের সভায় পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, ‘আমাদের অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এফটিএ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়েছে।

জসিম উদ্দিন এসওএম-এ ৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ছয়টি অমীমাংসিত চুক্তি হলো, বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাঠামো চুক্তির পণ্য, উৎপত্তির নিয়ম, শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ এবং পরিষেবায় বাণিজ্য।

সভায় জসিম উদ্দিন ‘ব্লু অর্থনীতিসহ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি বিবৃতি প্রদান করেন, যার জন্য বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে।

আগামী ৪ এপ্রিল ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আগে বিমসটেক এসওএম-এর ২৫তম অধিবেশন শুরু হয়।

বৈঠকে বিমসটেক সেন্টার ফর ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট এবং বিমসটেক সেন্টার অব এক্সিলেন্স অন ট্রপিক্যাল মেডিসিনসহ বিমসটেক সেন্টার সম্পর্কিত ফলাফল বিবেচনা করা হয়।

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় বিশতম বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের খসড়া অস্থায়ী এজেন্ডা এবং খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনাও চূড়ান্ত করেছেন।

বৈঠকে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের খসড়া অস্থায়ী এজেন্ডা এবং খসড়া ঘোষণাও চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলাদেশ ঢাকায় বিমসটেকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ২৬তম সম্মেলনের আয়োজন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিবেন।


ঈদের আগে রিজার্ভ বেড়ে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৫
বাসস

রমজান মাস ও ঈদকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে মার্চ মাস শেষ হওয়ার আগেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেশের মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

রমজান মাস ও ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসের প্রথম ২৬ দিনে ২ দশকি ৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো মাসের জন্য সর্বোচ্চ।

তবে ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) এর অধীনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশের নেট রিজার্ভ বর্তমানে ২০ দশকি ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।


র‌্যাংগস ইমার্টের আয়োজনে ওএলইডি ফেয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পছন্দের ওএলইডি টিভি কেনার মাধ্যমে ক্রেতাদের ঈদ আনন্দ দ্বিগুণ করতে সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান ২ -এ অবস্থিত র‌্যাংগস ইমার্টে বিশেষ ওএলইডি ফেয়ার আয়োজনে যুক্ত হয়েছে স্যামসাং। গত ২০ মার্চ শুরু হওয়া ফেয়ারটি চলবে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত। আজ র‍্যাংগস ইমার্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাং মিন জাং; ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব বিজনেস শাহরিয়ার বিন লুৎফর এবং প্রোডাক্ট প্ল্যানিংয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে র‌্যাংগস ইমার্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিভিশনাল ডিরেক্টর ইয়ামিন শরীফ চৌধুরী, হেড অব বিজনেস মো. রাশেদুল ইসলাম; হেড অব প্রোডাক্ট রায়হান আহমেদ এবং হেড অব সেলস গোলাম আজম খান।

ঈদের আনন্দে অনেকেই তাদের হোম এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম আপগ্রেড করতে চান। ওএলইডি টিভি ফেয়ারে সে সুযোগই পাচ্ছেন ক্রেতারা। এ ফেয়ার থেকে তারা আকর্ষণীয় প্রমোশনাল অফারে স্যামসাংয়ের গ্লেয়ার-ফ্রি ডিসপ্লে, শতভাগ কালার ভলিউম ও ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার ভিজ্যুয়ালের অত্যাধুনিক ওএলইডি টিভি কিনতে পারবেন। ক্রেতাদের জন্য সেরা বিনোদন অভিজ্ঞতা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ স্যামসাং, এ ফেয়ার আয়োজন ব্র্যান্ডটির সে অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

ফেয়ারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, র‌্যাংগস ইমার্টের যে কোনো আউটলেট থেকে নির্দিষ্ট ওএলইডি টিভি কিনলে সাথে বিনামূল্যে একটি সাউন্ডবার পাবেন ক্রেতারা, যা তাদের ওএলইডি টিভির অসাধারণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এছাড়াও, ক্রেতাদের জন্য থাকছে র‍্যাফেল ড্র-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ। র‍্যাফেল ড্র -এর মাধ্যমে ফেয়ার শেষে তিনজন ভাগ্যবান বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে বিজয়ীরা পাবেন স্যামসাং ৬৫-ইঞ্চি ওএলইডি টিভিসহ দুর্দান্ত সব উপহার!

অনুষ্ঠানে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশের ডিরেক্টর ও হেড অব বিজনেস শাহরিয়ার বিন লুৎফর বলেন,

“স্যামসাং সবসময় দেশজুড়ে এর ক্রেতাদের জন্য সেরা প্রযুক্তি নিয়ে নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমৃদ্ধ সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিতে আমাদের ওএলইডি টিভিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, এর গ্লেয়ার-ফ্রি প্রযুক্তি নিরবচ্ছিন্ন বিনোদন গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। ঈদের আনন্দে আমরা ওএলইডি প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করতে চাই, যেন আমাদের ক্রেতারা তাদের পরিবারের সঙ্গে দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন।”

র‌্যাংগস ইমার্টের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ইয়ামিন শরীফ চৌধুরী বলেন, “র‌্যাংগস ইমার্ট সবসময় আধুনিক প্রযুক্তি ও মানুষের লাইফস্টাইলের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কাজ করে। এ ফেয়ারের মাধ্যমে আমরা ক্রেতাদের জন্য শপিং অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে চাই। একইসাথে, তারা যেন সেরা অফার ও রিওয়ার্ড উপভোগ করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য, ইলেক্ট্রনিকস পণ্য কেনার ক্ষেত্রে র‌্যাংগস ইমার্টকে দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শপিং গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।”


করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার দাবি ঢাকা চেম্বারের

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৫ ২০:৩৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা ও সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে উৎপাদনকারীদের জন্য আগাম কর ধাপে ধাপে বিলুপ্তি ও বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য আগাম কর হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ করা উচিত। ব্যক্তির সর্বোচ্চ কর কমানো উচিত। করজাল বাড়ানোর জন্য এনবিআরের পদক্ষেপ নিতে হবে।

এসময় বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর কমানো, ভ্যাটের একক হার করার প্রস্তাব দেন তিনি।

সংগঠনটির অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- অটোমেটেড করপোরেট কর রিটার্ন চালু, ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (পিএসআর) সংগ্রহে বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা, ভ্যাট ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি ও তা ব্যবসায়ীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা ও একক মূসকহার বা ভ্যাট হার ১০ শতাংশ করা।

তাসকীন আহমেদ বলেন, করপোরেট কর রিটার্ন প্রদানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি না থাকায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দেয়। ম্যানুয়াল বা হাতে লেখা রিটার্ন সময়সাপেক্ষ, জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ হয়। এসব উল্লেখ করে দ্রুত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অটোমেটেড করপোরেট কর রিটার্ন চালুর করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যক্তির কর বেশি হওয়া উচিত। কোম্পানির কম হওয়া উচিত। এবার ব্যক্তির কর ৩০ শতাংশ হবে। এটাকে আরও বাড়ানো উচিত। ভারতেও বেশি। উন্নত দেশে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। এটাকে কমানো ঠিক হবে না। বাড়াতে হবে। নইলে বৈষম্য কমবে না। উন্নত দেশে ব্যক্তির কর বেশি হওয়ায় বৈষম্য কম। এটা ঠিক তারা বেশি কর দিয়ে বেশি সেবা পান। আমাদেরও সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে মানুষ হাতে কম টাকা রাখবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিরোধে ভ্যাটের একক হার হয়নি। তারাই এখন ভুগছে। সবাই একমত হলে, হার কিছুটা কমিয়ে হলেও একক হারে যাওয়া উচিত। আপনাদের এফবিসিসিআইকে প্রস্তাব দিতে বলেন। দরকার হলে আমরা, ব্যবসায়ীদের জন্য সফটওয়্যারও করে দেব। যত ঝগড়া ভ্যাটের অনেক হারের কারণে।

এছাড়া বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন আলু কেনার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ এআইটি হ্রাস করা, কোল্ড স্টোরেজের বিভিন্ন দ্রব্যাদি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও এআইটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশক, মশার কয়েল, অ্যারোসেল, রিপিলেন্ট আমদানিতে কর হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) কৃষিজ পণ্য সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর কর্তনে অব্যাহতি, বিক্রয়ের উপর ন্যূনতম আয়কর ০.৬০ বাতিল করা, মূসকের আদর্শ হার হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছে।

শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এসপিএফ বাগদা ও ভেনামি চিংড়ি আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ও আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন রঙ ও রঙ জাতীয় পণ্যকে অত্যাবশকীয় পণ্য হিসাবে বিবেচনা করে স্থানীয় ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে।

অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অর্জিত লভ্যাংশে উপর প্রস্তাবিত করপোরেট কর হ্রাস করে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন স্থানীয় বাজার থেকে চামড়া সংগ্রহ কালে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে।


লভ্যাংশ বাড়তে পারে ১৮ ব্যাংকের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিসেম্বরে’২৪ অর্থবছরের আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। গত ১৩ মার্চ থেকে প্রাইম ব্যাংকের বোর্ড সভার মাধ্যমে ডিভিডেন্ড ঘোষণা শুরু হয়। সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংকটি ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। আগের বছর যেখানে সাড়ে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অন্য ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। গত অর্থবছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধি পাওয়া ১৮ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) অনিরক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য সময়ে ১৮ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। একই সময়ে ইপিএস কমেছে ১০টি, অপরিবর্তিত একটি এবং লোকসানে ৬টি ব্যাংক।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিএস বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক), ব্যাংক এশিয়া, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি), ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি), পূবালী ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক), ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসি।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিটেড ইপিএস) হয়েছে ০.১৩৬ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার লোকসান ছিল ০.০৮১ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ০.৮৬৯ টাকা। গত অর্থছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ১৩৭ পয়সা।

ব্যাংক এশিয়া: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৭১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ০৬ পয়সা।

ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৭ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬৩ পয়সা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২০ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩১ পয়সা।

দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা আয়। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮১ পয়সা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিডেটেড ইপিএস) হয়েছে ৬৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (কনস্যুলেডেটেড ইপিএস) ১ টাকা ৫১ পয়সা আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯৭ পয়সা।

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫৭ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। গত অর্থবছরের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৫ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৭৮ পয়সা আয় করেছিল।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে (জানুয়ারি’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ০৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ১১ পয়সা ছিল।

সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬০ ইপিএস হয়েছিল।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৯৪ ইপিএস হয়েছিল।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৩৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ টাবা ১৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ৫ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৯৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৭৮ পয়সা ছিল।

যমুনা ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৩ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৭৮ পয়সা।


সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার: ক্ষুদ্র কোম্পানির উত্থান ভালো, হোঁচট খেল ব্যাংক খাত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

সপ্তাহজুড়ে রাজধানীর পুঁজিবাজারে লেনদেনে ভালো অবস্থানে আছে ক্ষুদ্র ও মধ্যম আকারের কোম্পানির এসএমই সূচক। অন্যদিকে এর আগের সপ্তাহে উত্থানের পর গত সপ্তাহে আবারও হোঁচট খেল ব্যাংক খাত।

গত পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ৯৭০ পয়েন্ট নিয়ে শুরু হওয়া এ সূচক সপ্তাহে শেষে ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫ পয়েন্ট।

শুধু এসএমই খাত না, সপ্তাহান্তে ডিএসই'র প্রধান সূচক বেড়েছে ২১ পয়েন্ট। এছাড়া বাছাইকৃত ব্লু-চিপ কোম্পানি ডিএস-৩০ এর সূচক বেড়েছে ১১ পয়েন্ট এবং শরীয়া ভিত্তিক সূচক বেড়েছে ৪ পয়েন্ট।

অন্যদিকে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাংক খাতের শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব বজায় থাকলেও এবার রীতিমতো হোঁচট খেয়েছে এ খাত। ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম কমেছে ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

দাম কমতে শুরু করায় বিনিয়োগকারীরা লেনদেন কমিয়ে দিয়েছেন এ খাতের শেয়ারে। সপ্তাহ ব্যবধানে এ খাতের শেয়ারের লেনদেন কমেছে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে ১৫ ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়লেও দাম কমেছে ১৬ এবং অপরিবর্তিত আছে ৫ ব্যাংকের শেয়ারের দাম।

ব্যাংক খাতের শেয়ারের পাশাপাশি আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোও সুবিধা করে উঠতে পারেনি গেল পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে। লেনদেনে অংশ নেয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে মাত্র ৩, কমেছে ১৩ এবং অপরিবর্তিত আছে ৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সূচক বাড়লেও গেল সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল নিম্নগামী। ১৭৬ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ১৮৪ কোম্পানির। অন্যদিকে ৩৪ কোম্পানির শেয়ারের দামে আসেনি কোনো পরিবর্তন।

সপ্তাহের প্রথমদিন ৯ মার্চ পতন দিয়ে লেনদেনে শুরু হওয়ার পর উত্থানের বাকি দিনগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায়। সপ্তাহের শেষদিন ১৩ মার্চ এসে ঢাকার পুঁজিবাজারের গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৩৯০ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৬২ কোটি টাকা।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে গড় লেনদেন বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইউফিউশান, বিচ হ্যাচারি এবং লভেলো কোম্পানির শেয়ার। এরমধ্যে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ লেনদেন বেড়ে শীর্ষে আছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

ঢাকার বাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা বেশিরভাগ কোম্পানিই বি এবং জেড ক্যাটাগরির। শীর্ষ দশে এ ক্যাটাগরির কোম্পানি মাত্র তিনটি। ডিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেন শেষে দরবৃদ্ধির শীর্ষে আছে বি ক্যাটাগরির কোম্পানি এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস।

অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে এ ক্যাটাগরির কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

ডিএসইতে খারাপ কোম্পানির দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, এখনো পুঁজিবাজার স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসেনি। এতে করে প্রায়শই খারাপ কোম্পানিকে পুঁজি করে কারসাজিকারিরা ফায়দা লুটতে চায়। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা চায় ক্ষতি পোষাতে এসব কোম্পানিতে অর্থলগ্নি করে দ্রুত মুনাফা তুলতে। এজন্যই শীর্ষ কোম্পানির তালিকায় বি কিংবা জেড ক্যাটাগরির আধিপত্য দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির এক সদস্য বলেন, পুঁজিবাজারে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসতে এখনো সময় লাগবে। বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে।

ভালো কোম্পানির বিনিয়োগ এবং দেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানির আইপিও বাজারে আসলে পুঁজিবাজার আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।


৫ মাসে নিত্য পণ্যের দাম বহুলাংশে কমেছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত পাঁচ মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বহুলাংশে কমেছে। একইভাবে গত বছরের রমজানের তুলনায় এ বছর বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় রয়েছে চাল, গম, ডাল, মুরগি, ডিম, মাছ, সয়াবিন, পামওয়েল, চিনি, লবণ, আলু, টমেটো, মরিচ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও হলুদ।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মুদি দোকান ও মুরগির মার্কেট থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সংগৃহীত তথ্যে এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার চাল (নাজিরশাইল, মিনিকেট, বিআর২৮, গুটি ও পাইজাম) এবং গমের (লুজ আটা, প্যাকেটজাত আটা, লুজ ময়দা ও প্যাকেটজাত ময়দা) দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও গত বছরের রমজানের তুলনায় চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও গমের দাম (আটা ও ময়দা লুজ প্যাকেটজাত) কমেছে।


চাহিদা মেটাতে এলএনজি-সার-মসুর ডাল আমদানি করবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এলএনজি, সার ও মসুর ডাল আমদানি করতে কয়েকটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের কমিটি।

আজ বুধবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এক সভায় এসব প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয় গ্যাসের চাহিদা মেটাতে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা।

সুইজারল্যান্ডের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড ৭৫৪ কোটি ৪২ লাখ টাকায় একটি কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে।যার প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্য ১৫ দশমিক ৭৩ ডলার। এছাড়া সিঙ্গাপুরের গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই ৭৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে। যার প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্য ১৫ দশমিক ৪৭ ডলার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রস্তাব অনুযায়ী সংস্থাটি স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে।

শেখ এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা বাল্ক মসুর ডাল ৯৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরবরাহ করবে। যার প্রতি কেজির দর পড়বে ৯৫ টাকা ৪০ পয়সা।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) থেকে ১৫৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ হাজার টন ব্যাগযুক্ত গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করবে। যার প্রতি টনের দাম পড়বে ৪২২ দশমিক ৬২৫ ডলার।


ভারত-পাকিস্তান থেকে ৩৭ হাজার ২৫০ টন চাল এসেছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ মার্চ, ২০২৫ ২০:৫৫
ইউএনবি

ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ৩৭ হাজার ২৫০ টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

আজ বুধবার সকালে এসব চাল দেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলাম।

তিনি বলেন, জি টু জি ভিত্তিতে পাকিস্তান থাকে আমদানির ২৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আতপ চাল নিয়ে এমভি এসআইবিআই এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের (প্যাকেজ-০৫) আওতায় ভারত থেকে আমদানির ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি এইচটি ইউনাইট জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

জাহাজ দুটিতে আনা চালের নমুনা পরীক্ষা শেষে আজই খালাসের কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


banner close